ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত একাধিক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদের দিন স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুপুর দেড়টার দিকে নাজিম কাজি নামে এক ব্যক্তি সংঘর্ষ চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নাজিম কাজির মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানা মত রয়েছে; কেউ বলছেন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আবার কেউ বলছেন নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।

এই সংঘর্ষে কুবির কাজি গ্রুপের কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে আফিল উদ্দিনের ছেলে কুবির কাজি এবং নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। শিমুল কাজিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপির জাহাঙ্গীর গ্রুপ, যার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি লাল খাঁ এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদল সদস্য জাহাঙ্গীর, এই হামলার জন্য দায়ী। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরাসরি সংঘর্ষে অংশ নিয়েছিলেন।

দুই পক্ষের মধ্যে জমি এবং পূর্বের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল, যার জেরে ঈদের দিন এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ছত্রপাড়া মসজিদের সামনে আরেকটি সংঘর্ষে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান জানিয়েছেন, হিন্দুদের পরিত্যক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ জব্দের মার্কিন চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত একাধিক

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদের দিন স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুপুর দেড়টার দিকে নাজিম কাজি নামে এক ব্যক্তি সংঘর্ষ চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নাজিম কাজির মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানা মত রয়েছে; কেউ বলছেন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আবার কেউ বলছেন নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।

এই সংঘর্ষে কুবির কাজি গ্রুপের কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে আফিল উদ্দিনের ছেলে কুবির কাজি এবং নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। শিমুল কাজিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপির জাহাঙ্গীর গ্রুপ, যার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি লাল খাঁ এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদল সদস্য জাহাঙ্গীর, এই হামলার জন্য দায়ী। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরাসরি সংঘর্ষে অংশ নিয়েছিলেন।

দুই পক্ষের মধ্যে জমি এবং পূর্বের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল, যার জেরে ঈদের দিন এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ছত্রপাড়া মসজিদের সামনে আরেকটি সংঘর্ষে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান জানিয়েছেন, হিন্দুদের পরিত্যক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।