ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের গুরুতর অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে সম্প্রতি ‘জুলাই দ্রোহ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর শনিআখরা দনিয়া কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাফেজ দেলাওয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে দলীয় লোকজনকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেও একই পথে হাঁটার অভিযোগ তোলেন।

নুরুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব বন্ধ না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই পদযাত্রায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাই। তিনি আরও বলেন, অতীতে বালুর ট্রাক অপসারণ করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা শহীদ হয়েছেন। অথচ তখন অনেকেই নীরব ছিলেন। আজও ট্রাক দিয়ে জুলাই পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।

নুরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে যাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, তারাই এখন আন্দোলনের অর্জনকে নিজেদের বলে দাবি করছে। অথচ জুলাই শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। শহীদ পরিবারগুলো এখনো তাদের প্রত্যাশিত সম্মান ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ পরিবারকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরও উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। জনগণ সবকিছু দেখছে এবং সময়মতো যথাযথ জবাব দেবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী পথে: জামায়াত

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে সম্প্রতি ‘জুলাই দ্রোহ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর শনিআখরা দনিয়া কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাফেজ দেলাওয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে দলীয় লোকজনকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেও একই পথে হাঁটার অভিযোগ তোলেন।

নুরুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব বন্ধ না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই পদযাত্রায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাই। তিনি আরও বলেন, অতীতে বালুর ট্রাক অপসারণ করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা শহীদ হয়েছেন। অথচ তখন অনেকেই নীরব ছিলেন। আজও ট্রাক দিয়ে জুলাই পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।

নুরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে যাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, তারাই এখন আন্দোলনের অর্জনকে নিজেদের বলে দাবি করছে। অথচ জুলাই শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। শহীদ পরিবারগুলো এখনো তাদের প্রত্যাশিত সম্মান ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ পরিবারকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরও উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। জনগণ সবকিছু দেখছে এবং সময়মতো যথাযথ জবাব দেবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে।