ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতি জরুরি: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও দীর্ঘ সীমান্তের কারণে ভারতের আধিপত্যবাদের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। গত সপ্তাহে এনসিপির গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈশ্বিক প্রবাসী সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে শুরু করে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশকে কার্যত একটি করদ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রবাসীদের বাংলাদেশের ভাগ্যোন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীদের যথাযথ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, তা কেবল নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে পূরণ হবে না। এ জন্য তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ এবং অর্থনৈতিক কাঠামোতে আমূল সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

এনসিপি বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি এ সংগ্রামে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রবাসীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স শাটডাউন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। ওই কর্মসূচির ফলে তৎকালীন সরকার ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছিল।

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে’, ‘ডিপ পাওয়ার’ সক্রিয়: সাবেক শিবির সভাপতি

ভারতের আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতি জরুরি: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ

আপডেট সময় : ১১:১৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও দীর্ঘ সীমান্তের কারণে ভারতের আধিপত্যবাদের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। গত সপ্তাহে এনসিপির গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈশ্বিক প্রবাসী সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে শুরু করে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশকে কার্যত একটি করদ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রবাসীদের বাংলাদেশের ভাগ্যোন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীদের যথাযথ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, তা কেবল নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে পূরণ হবে না। এ জন্য তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ এবং অর্থনৈতিক কাঠামোতে আমূল সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

এনসিপি বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি এ সংগ্রামে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রবাসীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স শাটডাউন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। ওই কর্মসূচির ফলে তৎকালীন সরকার ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছিল।

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।