দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন পুনরায় কলকাতায় পা রেখেছেন। তার এই আগমনে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় কেউ কেউ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং তিনি দ্রুত বিজেপি সরকারের গাড়িতে উঠে এলাকা ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, আজ শনিবার রবীন্দ্র সদনে সেক্যুলার মিশন ও এইচআরবিএফএফের একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকতে পারেন। তসলিমা নাসরিনের আগমনে বিজেপি ভক্তদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে এবং কেউ কেউ তাকে ‘মোদিভক্তদের নতুন মা’ আখ্যা দেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে চরম বিরক্তি দেখা গেছে এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
নেটিজেনরা ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন তুলছেন, তার কলকাতায় ফেরায় আখেরে লাভটা কী? অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, একসময়ের পুরোনো লেখকরা প্রায় সবাই প্রয়াত হয়েছেন অথবা বিয়ে করে সংসার পেতেছেন, ফলে তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে তাদের আর কোনো সামাজিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকার সুযোগ নেই। এই ধরনের শ্লেষাত্মক মন্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে, তসলিমা নাসরিনের সাহিত্যকর্মের চেয়ে তার বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবন এবং সস্তা প্রচার পাওয়ার নেশাই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ।
তসলিমা নাসরিনের তথাকথিত ‘উগ্র নারীবাদের’ আসল রূপ নিয়ে কলকাতার তালিম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বিশিষ্ট গবেষক আবু রিদার ‘তসলিমা নাসরিন : জীবনবোধ ও যৌনচেতনা’ শীর্ষক বইটিতে বিস্তারিত সমালোচনা করা হয়েছে। তসলিমা নাসরিনের প্রথম স্বামী ও কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঈশাক খান একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি তার লেখায় জানিয়েছেন, তসলিমা যদি বাংলাদেশে নারী স্বাধীনতা নেই বলে দাবি করেন, তবে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুর পর তিনি কীভাবে পরপর আরও তিনজনকে (নাঈমুল ইসলাম, মিনার মাহমুদ ও হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস) বিয়ে করলেন? নিজের রচিত ‘ক’ গ্রন্থে তসলিমা নাসরিন নিজেই কতজনের সঙ্গে লিভ-ইন করেছেন তার পরিসংখ্যান দিয়েছেন। এমনকি কলকাতাতেও তিনি কার কার সঙ্গে লিভ-ইন করেছেন, তার বর্ণনাও দিয়েছেন। এই তালিকায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হাসমত জালালসহ অনেকের নাম রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকে ব্যঙ্গ করে বলছেন, কলকাতায় ৩১ জুলাই ঢুকে পড়া তসলিমা নাসরিনের এই ‘বহুগামী উগ্র নারীবাদ’ আরও বিকশিত হোক। ২০০৭ সালে ‘দ্বিখণ্ডি’…
রিপোর্টারের নাম 















