ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

গাংনীর সাহারবাটিতে ‘জিন সাপ’ আতঙ্ক: কুসংস্কার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের মানুষ এক অদ্ভুত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে অদৃশ্য সাপে কামড়েছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। তবে এসব কথিত কামড়ের সময় সাপের দেখা মিলছে না। এই ভীতিকর পরিস্থিতির শুরু হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জুই খাতুনের মৃত্যুর পর, যাকে গত ১২ জুলাই রাতে সাপে কামড়ানোর পরই মারা যেতে হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিগত তিন মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৩৪ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে জুইয়ের মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। জুইয়ের পরিবার চিকিৎসকদের অবহেলাকে দায়ী করলেও, তার মৃত্যুর পর থেকেই সাহারবাটি গ্রামে ‘জিন সাপ’ সংক্রান্ত কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন ছোট-বড় অনেকেই অদৃশ্য সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। তবে ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় গ্রাম্য ওঝাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ওঝারা এই আতঙ্ককে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সাহারবাটি গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। জুইয়ের মা শান্তনা খাতুন তার মেয়ের মতো এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন আর কারো না হয়, সেই আকুতি জানিয়েছেন।

গ্রামের শিশু হুরাইয়া আক্তার জানায়, বাড়ির পাশে খেলার সময় তাকে কী যেন কামড় দেয়। পরে ওঝার কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান যে তাকে সাপে কামড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল, যাতে কুসংস্কার দূর করে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায় এবং অর্থলোভী ওঝাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে গণমাধ্যমে আস্থার সংকট তীব্র, বহু সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতি

গাংনীর সাহারবাটিতে ‘জিন সাপ’ আতঙ্ক: কুসংস্কার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের মানুষ এক অদ্ভুত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে অদৃশ্য সাপে কামড়েছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। তবে এসব কথিত কামড়ের সময় সাপের দেখা মিলছে না। এই ভীতিকর পরিস্থিতির শুরু হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জুই খাতুনের মৃত্যুর পর, যাকে গত ১২ জুলাই রাতে সাপে কামড়ানোর পরই মারা যেতে হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিগত তিন মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৩৪ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে জুইয়ের মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। জুইয়ের পরিবার চিকিৎসকদের অবহেলাকে দায়ী করলেও, তার মৃত্যুর পর থেকেই সাহারবাটি গ্রামে ‘জিন সাপ’ সংক্রান্ত কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন ছোট-বড় অনেকেই অদৃশ্য সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। তবে ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় গ্রাম্য ওঝাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ওঝারা এই আতঙ্ককে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সাহারবাটি গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। জুইয়ের মা শান্তনা খাতুন তার মেয়ের মতো এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন আর কারো না হয়, সেই আকুতি জানিয়েছেন।

গ্রামের শিশু হুরাইয়া আক্তার জানায়, বাড়ির পাশে খেলার সময় তাকে কী যেন কামড় দেয়। পরে ওঝার কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান যে তাকে সাপে কামড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল, যাতে কুসংস্কার দূর করে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায় এবং অর্থলোভী ওঝাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।