২০২৬ সালে বর্তমান বিএনপি সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তারা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করবেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না এবং ঢাকা শহরের মানুষও দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে।
নাহিদ ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের হবিগঞ্জের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকারি বাহিনীর হামলায় কিশোর আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্য চোখও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সেই চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার তিন দিন পরেও বিগত সরকারের পক্ষ থেকে আলিফের খোঁজ নেওয়া হয়নি, যা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের তৎকালীন সদস্যসচিব এই হামলায় জড়িত ছিল এবং এ ঘটনায় অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও তখন কোনো সাংগঠনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার এ বার্তা দিতে চেয়েছিল যে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসীরা দিনের আলোয় হামলা, হত্যা বা চোখ উপড়ে ফেলতে পারে, কিন্তু তার বিচার হবে না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তৎকালীন সরকারি দল যখন এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়া হয়, তখনও বাধা দিতো। হবিগঞ্জে প্রায় এক হাজার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জড়ো হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটি সভ্য সমাজে এমন ঘটনা কল্পনাও করা যায় না।
বিগত সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জি কে গউসের অনুসারী যে ব্যক্তি আলিফের ওপর এবং সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা চালিয়েছিল, অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে হলে তিনি এতক্ষণে ক্ষমা চাইতেন, পদত্যাগ করতেন অথবা দল থেকে বহিষ্কৃত হতেন। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতারও তীব্র সমালোচনা করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক।
রিপোর্টারের নাম 













