ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে গণমাধ্যমে আস্থার সংকট তীব্র, বহু সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতি

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমগুলো এক অভূতপূর্ব আস্থার সংকটে পড়েছে। এককালে যা ছিল মানুষের দৈনন্দিন খবরের অন্যতম প্রধান উৎস, আজ তা ক্রমশ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। পক্ষপাতদুষ্ট খবর পরিবেশন, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতি নির্লজ্জ আনুগত্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনের আসল সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণে মূলধারার এই মিডিয়াকে সাধারণ মানুষ ‘গোদি মিডিয়া’ বলে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন। এর ফলস্বরূপ, একদিকে যেমন টেলিভিশন চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা বা টিআরপি হু হু করে কমছে, অন্যদিকে তেমনি গণমাধ্যমগুলোতে শুরু হয়েছে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই।

সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আর শুধু খবর পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং তা করপোরেট স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ খবরের বিকল্প উৎস হিসেবে ইউটিউব চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উপর অনেক বেশি নির্ভর করতে শুরু করেছেন, যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকরা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরপেক্ষ ও সাহসী খবর পরিবেশন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন প্রবীণ ও কর্মরত সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, শুভ মৈত্র নামক এক প্রবীণ সাংবাদিকের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেলগুলো বর্তমানে কার্যত ‘ভেন্টিলেশনে’ চলে গেছে। কনটেন্টের মান তলানিতে ঠেকায় এবং সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে আসায় দেশের মিডিয়ার র‍্যাংকিং বিশ্ব সূচকে ১৫৭-এর মতো হতাশাজনক জায়গায় নেমে গেছে, যা প্রতিবেশী পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ।

লেখক-সাংবাদিক গৌতম বসুমল্লিক উল্লেখ করেছেন যে, কীভাবে করপোরেট মালিকের নির্দেশে রাস্তায় নেমে খবর করা সাংবাদিকরা হঠাৎ করে একদিন অফিসে গিয়ে জানতে পারেন তাদের চাকরি নেই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গণহারে চাকরি যাওয়ার প্রতিবাদে কোনো মিছিল বা আন্দোলনও চোখে পড়ে না, যা সাংবাদিকদের চরম অসহায়ত্বকেই প্রমাণ করে। এই ছাঁটাইয়ের চিত্রটি কতটা ভয়াবহ, তা সম্প্রতি কলকাতার একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়। একটি সোশ্যাল মিডিয়া আপডেটের তথ্য অনুযায়ী, মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন চ্যানেল ‘নিউজ ১৮ বাংলা’-তে সম্প্রতি ২৮ জন সংবাদকর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। রিপোর্টিং, ডেস্ক, ক্যামেরাম্যান, গ্রাফিক্স ডিজাইনার থেকে…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোর গ্যাং দমনে খেলাধুলার গুরুত্ব: সংসদ সদস্যের আহ্বান

ভারতে গণমাধ্যমে আস্থার সংকট তীব্র, বহু সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতি

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমগুলো এক অভূতপূর্ব আস্থার সংকটে পড়েছে। এককালে যা ছিল মানুষের দৈনন্দিন খবরের অন্যতম প্রধান উৎস, আজ তা ক্রমশ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। পক্ষপাতদুষ্ট খবর পরিবেশন, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতি নির্লজ্জ আনুগত্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনের আসল সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণে মূলধারার এই মিডিয়াকে সাধারণ মানুষ ‘গোদি মিডিয়া’ বলে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন। এর ফলস্বরূপ, একদিকে যেমন টেলিভিশন চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা বা টিআরপি হু হু করে কমছে, অন্যদিকে তেমনি গণমাধ্যমগুলোতে শুরু হয়েছে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই।

সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আর শুধু খবর পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং তা করপোরেট স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ খবরের বিকল্প উৎস হিসেবে ইউটিউব চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উপর অনেক বেশি নির্ভর করতে শুরু করেছেন, যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকরা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরপেক্ষ ও সাহসী খবর পরিবেশন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন প্রবীণ ও কর্মরত সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, শুভ মৈত্র নামক এক প্রবীণ সাংবাদিকের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেলগুলো বর্তমানে কার্যত ‘ভেন্টিলেশনে’ চলে গেছে। কনটেন্টের মান তলানিতে ঠেকায় এবং সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে আসায় দেশের মিডিয়ার র‍্যাংকিং বিশ্ব সূচকে ১৫৭-এর মতো হতাশাজনক জায়গায় নেমে গেছে, যা প্রতিবেশী পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ।

লেখক-সাংবাদিক গৌতম বসুমল্লিক উল্লেখ করেছেন যে, কীভাবে করপোরেট মালিকের নির্দেশে রাস্তায় নেমে খবর করা সাংবাদিকরা হঠাৎ করে একদিন অফিসে গিয়ে জানতে পারেন তাদের চাকরি নেই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গণহারে চাকরি যাওয়ার প্রতিবাদে কোনো মিছিল বা আন্দোলনও চোখে পড়ে না, যা সাংবাদিকদের চরম অসহায়ত্বকেই প্রমাণ করে। এই ছাঁটাইয়ের চিত্রটি কতটা ভয়াবহ, তা সম্প্রতি কলকাতার একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়। একটি সোশ্যাল মিডিয়া আপডেটের তথ্য অনুযায়ী, মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন চ্যানেল ‘নিউজ ১৮ বাংলা’-তে সম্প্রতি ২৮ জন সংবাদকর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। রিপোর্টিং, ডেস্ক, ক্যামেরাম্যান, গ্রাফিক্স ডিজাইনার থেকে…