দেশের রাজনীতিতে একটি ‘ডিপ পাওয়ার’ বা অদৃশ্য শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মুছে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে – এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্ট ঘিরে সৃষ্ট আলোচনার পর তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন।
জাহিদুল ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, তার পূর্ববর্তী একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমালোচকদের কাছ থেকে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া এসেছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সকল মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সে কারণেই তিনি তার চিন্তা ও উপলব্ধির কিছু অংশ তুলে ধরতে চান।
সাবেক এই ছাত্রনেতা ব্যাখ্যা করেন, এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনীতি যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা জানেন কীভাবে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, এই শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটে। অনেক সময় দৃশ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ মনে হলেও, এর পেছনের মূল শক্তি অধরাই থেকে যায়।
হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে সংঘটিত হামলা প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম এটিকে পরিকল্পিত বললেও, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, যেমন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (এনসিপি) বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এর পেছনে ‘ডিপ পাওয়ার’ কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘ডিপ পাওয়ার’ কোনো নির্দিষ্ট দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বরং তারাই বিভিন্ন দলকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে।
জাহিদুল ইসলামের ভাষ্যমতে, সাধারণ মানুষ বা জনপরিসরে এই ‘ডিপ পাওয়ার’ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে দেওয়া হয় না। তিনি শহীদ ওসমান হাদী’র কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এই ট্যাবু ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন, যার পরিণতি ছিল তার শাহাদাত। সাবেক এই শিবির সভাপতি হুঁশিয়ারি দেন, যতদিন ‘ডিপ পাওয়ার’ সক্রিয় থাকবে, ততদিন গণতন্ত্র একটি প্রহসনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং ইনসাফের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, কারণ তার মতে, এই গণঅভ্যুত্থানকে মুছে ফেলার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে।
রিপোর্টারের নাম 











