ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সসাসের ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’ সম্পন্ন: তরুণ প্রতিভা অন্বেষণের জাতীয় প্রতিযোগিতা

দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করেছিল জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা”-এর ষষ্ঠ আসর, যা “সেরাদের সেরা সিজন-৬” নামে পরিচিত। মঙ্গলবার এক জমকালো ‘গ্র্যান্ড ফিনালের’ মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে গান, অভিনয় এবং আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়—এই সকল ধাপ অতিক্রম করে প্রতিটি বিভাগের জন্য সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী নির্বাচন করা হয়। এই নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে রমজান মাসজুড়ে টেলিভিশন চ্যানেল-৯-এ একটি বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে, যা দর্শকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। জনপ্রিয় আরজে টুটুল অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন এবং আব্দুল্লাহিল কাফী টেলিভিশন পর্বগুলোর পরিচালনা করেন।

“সেরাদের সেরা সিজন-৬” এর নির্বাহী পরিচালক ছিলেন এইচ এম আবু মুসা এবং পুরো প্রতিযোগিতার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। তাদের সকলের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিযোগিতাটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এই আয়োজনে আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী এবং আবু বকর সহ অনেকেই সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল: *ক গ্রুপে ১ম থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং *খ গ্রুপে ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীরা সসাসের ওয়েবসাইটে অনলাইনে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবারের আয়োজনে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়। চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগী ১ লক্ষ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, সকল বিজয়ীকে ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” এই ভাবনা থেকেই “সেরাদের সেরা” কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রতিভা, নৈতিকতা এবং শুদ্ধ শিল্পের সম্মিলন ঘটে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

সসাসের ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’ সম্পন্ন: তরুণ প্রতিভা অন্বেষণের জাতীয় প্রতিযোগিতা

আপডেট সময় : ০৯:২৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করেছিল জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা”-এর ষষ্ঠ আসর, যা “সেরাদের সেরা সিজন-৬” নামে পরিচিত। মঙ্গলবার এক জমকালো ‘গ্র্যান্ড ফিনালের’ মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে গান, অভিনয় এবং আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়—এই সকল ধাপ অতিক্রম করে প্রতিটি বিভাগের জন্য সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী নির্বাচন করা হয়। এই নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে রমজান মাসজুড়ে টেলিভিশন চ্যানেল-৯-এ একটি বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে, যা দর্শকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। জনপ্রিয় আরজে টুটুল অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন এবং আব্দুল্লাহিল কাফী টেলিভিশন পর্বগুলোর পরিচালনা করেন।

“সেরাদের সেরা সিজন-৬” এর নির্বাহী পরিচালক ছিলেন এইচ এম আবু মুসা এবং পুরো প্রতিযোগিতার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। তাদের সকলের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিযোগিতাটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এই আয়োজনে আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী এবং আবু বকর সহ অনেকেই সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল: *ক গ্রুপে ১ম থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং *খ গ্রুপে ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীরা সসাসের ওয়েবসাইটে অনলাইনে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবারের আয়োজনে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়। চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগী ১ লক্ষ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, সকল বিজয়ীকে ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” এই ভাবনা থেকেই “সেরাদের সেরা” কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রতিভা, নৈতিকতা এবং শুদ্ধ শিল্পের সম্মিলন ঘটে।