আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান থেকে তিন দফায় গোপনে জেট জ্বালানি আমদানি করেছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে এ খবর জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক গৃহযুদ্ধে যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে, তাতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর কাছে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ দিনের মতো জ্বালানি মজুত রয়েছে। তবে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানির দামে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে, যার ফলে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে এখন বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে।
ওই সূত্রের বরাতে আরও জানা যায়, জ্বালানির তিনটি চালানই ইয়াঙ্গুনের কাছে থিলাওয়া বন্দরে অবস্থিত একটি জ্বালানি টার্মিনালে পৌঁছেছে, যা জেট জ্বালানি সংরক্ষণের একটি কেন্দ্র। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বন্দরের নথি অনুযায়ী, এমভি রিফ নামের সরবরাহকারী জাহাজটি এই জ্বালানির উৎস হিসেবে ইরাককে দেখিয়েছিল। ইয়াঙ্গুন নদীর অগভীর ও কাদাময় পানিপথের জন্য উপযোগী এই তুলনামূলক ছোট জাহাজটি ১৮,৩৭৬ টন জ্বালানি বহন করতে সক্ষম, যা প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ব্যারেলের সমান।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তারা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের বেশি জেট জ্বালানি আমদানি করেছে। স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সাবেক উপদেষ্টা ও অস্ট্রেলীয় অর্থনীতিবিদ শন টারনেল নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান থেকে মিয়ানমারে জ্বালানি সরবরাহ বাস্তব এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
শন টারনেল আরও উল্লেখ করেন, জান্তার আর্থিক অবস্থা, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার দিক থেকে, সব সময়ের মতোই নাজুক। ইরানি রপ্তানি বাজার থেকে বাদ পড়লে জ্বালানির দামে যে ধরনের বৃদ্ধি হতে পারে, তাতে তাদের চলতি হিসাবের যে উদ্বৃত্ত দিয়ে তারা এখন রাশিয়া থেকে গোলাবারুদ ও আকাশপথের অস্ত্র কিনছে, সেটাও শেষ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে তারা তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও সরবরাহকারীকে হারাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























