ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা: খেলাপি ঋণের উচ্চ হার নিয়ে রেজা কিবরিয়ার উদ্বেগ

হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া দেশের ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। আমরা মোট ঋণের ৬ শতাংশ খেলাপি হলে ঘাবড়ে যেতাম। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশ ৬১ শতাংশ। এতে ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণভাবে বেহাল।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রেজা কিবরিয়া এসব কথা বলেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশা করাটা ভুল। আশা করি অর্থমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেবেন। কারণ আমাদের ব্যাংকিং দক্ষতা বাড়াতে হবে।” তার এই মন্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের দক্ষতা খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা জনগণ থেকে টাকা নিয়ে ৫ শতাংশে, আর সৎ ব্যবসায়ী ঋণ নিতে আসলে তাকে ১৪ বা ১৬ শতাংশ বলি। এ জন্যই আমাদের ব্যাংকিং খাত কার্যকর না। ব্যাংকিং সেক্টর দক্ষ হলে যে রেটে লোক টাকা নিয়ে আসে, সেই কাছাকাছি রেটে, ৪ বা ৬ রেটে ইন্টারেস্ট থাকা উচিত। সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছে না।” তিনি বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা পরিবর্তনেরও সমালোচনা করেন। পূর্বে ৯০ দিন সুদ না দিলেই খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন এক বছর সুদ না দিলেও খেলাপি বলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে তিনি মনে করেন।

অর্থনীতি খাতে ৪৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রেজা কিবরিয়া মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কম রাখাটা শ্রেয়। আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট প্রত্যেক বছর কমে, কারণটা হচ্ছে—আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির তফাতের ওপর সবকিছু নির্ভর করে। আমাদের মুদ্রাস্ফীতি ১০ হলে এবং আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতি ৩ হলে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট সাত শতাংশ কম হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান মন্থরতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং প্রতি ছয় মাস অন্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাজেট বিস্ময়ের কিছু নয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই এমপি। ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং তা জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা নসাৎ করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা: খেলাপি ঋণের উচ্চ হার নিয়ে রেজা কিবরিয়ার উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া দেশের ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। আমরা মোট ঋণের ৬ শতাংশ খেলাপি হলে ঘাবড়ে যেতাম। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশ ৬১ শতাংশ। এতে ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণভাবে বেহাল।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রেজা কিবরিয়া এসব কথা বলেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশা করাটা ভুল। আশা করি অর্থমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেবেন। কারণ আমাদের ব্যাংকিং দক্ষতা বাড়াতে হবে।” তার এই মন্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের দক্ষতা খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা জনগণ থেকে টাকা নিয়ে ৫ শতাংশে, আর সৎ ব্যবসায়ী ঋণ নিতে আসলে তাকে ১৪ বা ১৬ শতাংশ বলি। এ জন্যই আমাদের ব্যাংকিং খাত কার্যকর না। ব্যাংকিং সেক্টর দক্ষ হলে যে রেটে লোক টাকা নিয়ে আসে, সেই কাছাকাছি রেটে, ৪ বা ৬ রেটে ইন্টারেস্ট থাকা উচিত। সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছে না।” তিনি বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা পরিবর্তনেরও সমালোচনা করেন। পূর্বে ৯০ দিন সুদ না দিলেই খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন এক বছর সুদ না দিলেও খেলাপি বলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে তিনি মনে করেন।

অর্থনীতি খাতে ৪৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রেজা কিবরিয়া মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কম রাখাটা শ্রেয়। আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট প্রত্যেক বছর কমে, কারণটা হচ্ছে—আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির তফাতের ওপর সবকিছু নির্ভর করে। আমাদের মুদ্রাস্ফীতি ১০ হলে এবং আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতি ৩ হলে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট সাত শতাংশ কম হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান মন্থরতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং প্রতি ছয় মাস অন্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাজেট বিস্ময়ের কিছু নয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই এমপি। ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং তা জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ।