জুলাই বিপ্লবের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে সারা দেশে গণহত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলকের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এই মামলার শুনানিতে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে, যেখানে আসামি পলক নিজেই একজন সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ঘটনাটি ঘটে। এদিন মামলার সপ্তম সাক্ষী কবির হোসেন মৃধার জেরা করার দিন ধার্য ছিল। তবে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় চেয়ে জানান যে, আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর মুনসুরুল হক চৌধুরীকে এ মামলার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। ট্রাইব্যুনাল অবশ্য এই আবেদন মঞ্জুর করেনি।
এরপর পলককে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় উঠেই তিনি মাননীয় আদালতের কাছে সাক্ষীকে নিজে জেরা করার অনুমতি চান। এ সময় পলকের আইনজীবী লিটনও জানান যে, তার মক্কেল পনেরো মিনিট জেরা করতে চান। কিন্তু প্রসিকিউশন পক্ষ এতে আপত্তি জানায়।
প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আইনে আসামির নিজে জেরা করার কোনো সুযোগ নেই; শুধুমাত্র আসামির আইনজীবীই জেরা করতে পারেন। তখন আইনজীবী লিটন পাল্টা যুক্তি দেন যে, পলক নিজেও একজন আইনজীবী এবং আইন সম্পর্কে ভালো জানেন। তবে অনুমতি না মেলায় আইনজীবী লিটন আহমেদই কবির হোসেনকে জেরা শুরু করেন।
জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী লিটন সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আপনি বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছেন কিনা? জবাবে সাক্ষী কবির হোসেন মৃধা দৃঢ়ভাবে বলেন, না, তিনি অংশ নেননি। তিনি আরও জানান, ওইদিন রাতে হাসপাতালে পৌঁছে তিনি তার ছেলেসহ আরও আটজনের লাশ দেখতে পান এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একটি কাগজ দিয়েছিল।
এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী লিটন বলেন, বিজয় মিছিলে আনন্দ প্রকাশের কারণে গোলাগুলি হয় এবং সেই গুলিতেই আপনার ছেলে মারা গেছেন। প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পেরে সাক্ষী প্রথমে ‘হ্যাঁ’ জবাব দেন। তখন প্রসিকিউশন থেকে পুনরায় প্রশ্ন করতে বলা হয়। কিন্তু কাঠগড়ায় বসে আপত্তি জানিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন নিজে সাক্ষ্য দিলে কীভাবে সম্ভব। এরপর সাক্ষী তার পূর্বের বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, ৫ আগস্ট তার ছেলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























