ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার আবর্জনার স্তূপ ধসে ৪ জনের মৃত্যু, উদ্ধারকাজ চলছে

ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম আবর্জনার স্তূপ ধসে একটি ট্রাক ও কয়েকটি খাবারের দোকান চাপা পড়ে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ আরও পাঁচজনকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সোমবার উদ্ধার কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বানতারগেবাং আবর্জনার স্তূপটি রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ধসে পড়ে। জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশের পথ তৈরি করছেন এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সন্ধানে ট্র্যাকিং কুকুরও মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর আবর্জনার স্তূপের একটি অংশ ধসে পড়ে। জাকার্তা এবং এর আশেপাশের শহরগুলো ‘জাবোদেতাবেক’ নামে পরিচিত, যেখানে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের বাস। প্রতিদিন এই এলাকা থেকে প্রায় ১৪ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ বানতারগেবাংয়ের আয়তন ১১০ হেক্টরের বেশি, যেখানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টন বর্জ্য জমা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী হানিফ ফাইসল নুরোফিক এই ঘটনার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তিনি ২০০৮ সালে উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ নিষিদ্ধ করার পরও সেখানে বর্জ্য জমতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। রবিবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, ‘বানতারগেবাং জাকার্তা প্রশাসনের অধীন, তাই এর দায়ভারও তাদেরই নিতে হবে। এই ঘটনা আমাদের জন্য তিক্ত শিক্ষা হয়ে থাকা উচিত, যাতে জাকার্তা দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকার্তা পরিবেশ সংস্থা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বলে এএফপি জানিয়েছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেছিলেন যে ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ ল্যান্ডফিল পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হচ্ছে, তবে ২০২৮ সালের মধ্যে সেগুলোর বেশিরভাগই ধারণক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, সরকার দুই বছরের মধ্যে ৩৪টি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, যেখানে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি আবর্জনার স্তূপ ধসে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ ও ভারী বৃষ্টির কারণে ঘটেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও গুম হওয়াদের স্বজনদের এমপির কার্যালয়ে চাকরির প্রস্তাব

ইন্দোনেশিয়ার আবর্জনার স্তূপ ধসে ৪ জনের মৃত্যু, উদ্ধারকাজ চলছে

আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম আবর্জনার স্তূপ ধসে একটি ট্রাক ও কয়েকটি খাবারের দোকান চাপা পড়ে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ আরও পাঁচজনকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সোমবার উদ্ধার কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বানতারগেবাং আবর্জনার স্তূপটি রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ধসে পড়ে। জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশের পথ তৈরি করছেন এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সন্ধানে ট্র্যাকিং কুকুরও মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর আবর্জনার স্তূপের একটি অংশ ধসে পড়ে। জাকার্তা এবং এর আশেপাশের শহরগুলো ‘জাবোদেতাবেক’ নামে পরিচিত, যেখানে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের বাস। প্রতিদিন এই এলাকা থেকে প্রায় ১৪ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ বানতারগেবাংয়ের আয়তন ১১০ হেক্টরের বেশি, যেখানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টন বর্জ্য জমা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী হানিফ ফাইসল নুরোফিক এই ঘটনার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তিনি ২০০৮ সালে উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ নিষিদ্ধ করার পরও সেখানে বর্জ্য জমতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। রবিবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, ‘বানতারগেবাং জাকার্তা প্রশাসনের অধীন, তাই এর দায়ভারও তাদেরই নিতে হবে। এই ঘটনা আমাদের জন্য তিক্ত শিক্ষা হয়ে থাকা উচিত, যাতে জাকার্তা দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকার্তা পরিবেশ সংস্থা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বলে এএফপি জানিয়েছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেছিলেন যে ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ ল্যান্ডফিল পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হচ্ছে, তবে ২০২৮ সালের মধ্যে সেগুলোর বেশিরভাগই ধারণক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, সরকার দুই বছরের মধ্যে ৩৪টি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, যেখানে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি আবর্জনার স্তূপ ধসে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ ও ভারী বৃষ্টির কারণে ঘটেছিল।