ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার টনি ব্লেয়ারের মন্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া: ‘ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা নিতে হবে’

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মন্তব্যের পর কড়া জবাব দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। তিনি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো দেশের পক্ষ অন্ধভাবে সমর্থন করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রথম দিন থেকেই সমর্থন দেওয়া উচিত ছিল। ব্লেয়ারের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইভেট কুপার সরাসরি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

ইভেট কুপার বলেন, ‘আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একেবারেই একমত নই। রাজনীতিতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমাদের সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করে যেতে হবে। আবার এমন কিছু মানুষও আছেন যারা মনে করেন কোনো অবস্থাতেই আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়া উচিত নয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি মনে করি এই দুটি অবস্থানের কোনোটিই ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে না। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের দায়িত্ব হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা তিনি যথাযথভাবে পালন করছেন।’

সাক্ষাৎকারে কুপারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তিনি ব্লেয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনুগত’ বা ‘পুডল’ বলছেন কিনা। এর জবাবে এই কূটনীতিক বলেন, ‘মূল বিষয়টি হলো ইরাক যুদ্ধে আমাদের যে ভুলগুলো হয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া। আমি বিশ্বাস করি কিয়ার স্টারমার ঠিক সেই কাজটিই করেছেন।’

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তৎকালীন লেবার পার্টির সরকারের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে ব্রিটেন ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বর্তমান লেবার পার্টির সরকার সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আরও সতর্ক এবং স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার টনি ব্লেয়ারের মন্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া: ‘ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা নিতে হবে’

আপডেট সময় : ০৬:২৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মন্তব্যের পর কড়া জবাব দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। তিনি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো দেশের পক্ষ অন্ধভাবে সমর্থন করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রথম দিন থেকেই সমর্থন দেওয়া উচিত ছিল। ব্লেয়ারের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইভেট কুপার সরাসরি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

ইভেট কুপার বলেন, ‘আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একেবারেই একমত নই। রাজনীতিতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমাদের সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করে যেতে হবে। আবার এমন কিছু মানুষও আছেন যারা মনে করেন কোনো অবস্থাতেই আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়া উচিত নয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি মনে করি এই দুটি অবস্থানের কোনোটিই ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে না। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের দায়িত্ব হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা তিনি যথাযথভাবে পালন করছেন।’

সাক্ষাৎকারে কুপারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তিনি ব্লেয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনুগত’ বা ‘পুডল’ বলছেন কিনা। এর জবাবে এই কূটনীতিক বলেন, ‘মূল বিষয়টি হলো ইরাক যুদ্ধে আমাদের যে ভুলগুলো হয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া। আমি বিশ্বাস করি কিয়ার স্টারমার ঠিক সেই কাজটিই করেছেন।’

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তৎকালীন লেবার পার্টির সরকারের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে ব্রিটেন ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বর্তমান লেবার পার্টির সরকার সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আরও সতর্ক এবং স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।