রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসায় স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী। স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন এই অভিনেতা। তবে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত জীবন নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন আলভী। এটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আলভী দাবি করেন, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বেশ কিছু তথ্য জনসমক্ষে এনেছেন। আলভীর ভাষ্যমতে, তার বাসার ড্রয়িং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ কেবল ইকরার ফোনেই ছিল। শুটিংয়ের কাজে তিনি যখন নেপালে ছিলেন, সেই সময়কার (২৫-২৭ ফেব্রুয়ারি) ফুটেজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করবে। আলভী অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতিতে বাসায় অপরিচিত বন্ধু-বান্ধবদের আনাগোনা ছিল এবং সেখানে মাদক সেবনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি ইকরা তার সহকারীর মাধ্যমে ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আলভী বলেন, ইকরার ফোন এবং সিসিটিভি ফুটেজ যেন কোনোভাবেই টেম্পারিং বা মুছে ফেলা না হয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইকরার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কে বা কারা ডিজেবল করে দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাদক বা অন্য কোনো আলামত পরিবর্তনের চেষ্টা হতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন ও অতীত নিয়ে আলভী আরও কিছু স্পর্শকাতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, তাকে ডিভোর্স না দিয়েই ইকরা পরিবারের চাপে অন্য জায়গায় বিয়ে করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে আবার তার কাছেই ফিরে আসেন। আলভী বলেন, “একজন স্বামী হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতি বয়ে বেড়ানো অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল।”
পোস্টের শেষ দিকে আবেগপ্রবণ হয়ে আলভী লেখেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ থাকলেও একে অপরের প্রতি গভীর মায়া ও ভালোবাসা ছিল। বর্তমানে প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং পরিচিতদের অসহযোগিতায় তিনি কোণঠাসা বোধ করছেন। নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই অভিনেতা সবার কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের আকুতি জানিয়েছেন। আলভীর এই পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে এবং ঘটনাটি এখন ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























