মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:১২ পূর্বাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ইফতারের ফল এখন বিলাসিতা: লাগামহীন দামে নাভিশ্বাস ক্রেতার

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ফলের দাম। ইফতারের টেবিলে ফল এখন আর সহজলভ্য নয়, বরং সাধারণ ক্রেতার জন্য বিলাসিতার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আকাশছোঁয়া দামে খেজুর, আপেল, কমলাসহ প্রায় সব ফলই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার, রায়সাহেব বাজারসহ কয়েকটি ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা দরে। মাল্টার কেজি ৩০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪০০ টাকা, আপেল ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪০০ টাকা, আনার ৪৮০ টাকা এবং কালো আঙুর ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ফলের মধ্যে পেয়ারা ১২০ টাকা, পেঁপে ১৫০ টাকা এবং বড়ই ১০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ খেজুরেও লেগেছে মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ছোঁয়া। মেখজুল খেজুর ১ হাজার ৬০০ টাকা, মরিয়ম ৯০০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের তিউনিসিয়ান খেজুর ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম বেড়েছে। রায়সাহেব বাজারের একজন খেজুর বিক্রেতা সাত্তার বলেন, “বিভিন্ন অজুহাতে পাইকারি বিক্রেতারাই দাম বাড়ায়, আমরা তো শুধু খুচরা বিক্রি করি।” সদরঘাটের বাদামতলীর তাওয়াককুল এন্টারপ্রাইজের মালিক সুমন জানান, “খেজুরের সরবরাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় এবং বন্দর থেকে মাল ডেলিভারি না হওয়ায় কিছু জাতের দাম বেড়েছে।” বাদামতলীতে খেজুর কিনতে আসা সাকিব নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রমজানের শুরুতে এক দফা দাম বাড়ে, এখন আবার ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি জরুরি।”

কলার বাজারে দেখা গেছে, দেশি কলার ডজন ১২০ টাকা, সবরি ১৮০ টাকা এবং সাগর কলার ডজন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লক্ষ্মীবাজারের কলা বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন ফলন কম হওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া নতুন তরমুজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায় এবং প্রতি পিস ৩০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। রায়সাহেব বাজারের হারুন ফুডসের মালিক হারুন জানান, “সিজন এলে তরমুজের দাম কমবে। তবে অন্যান্য বিদেশি ফলের দাম আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আরও বাড়তে পারে।”

হারুন আরও জানান, বর্তমানে ফুজি আপেল প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান আপেল ৩২০ টাকা এবং বিদেশি গ্রিন আপেল ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি কমলার দামও আকৃতি ও প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে দেশি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজিতে। সব মিলিয়ে, রমজানে ফলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের ইফতারের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৯৪ কোটি টাকা বাজারমূল্যের তামাক আটক

29 October 2026

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: জামিন পেল কিশোর চালক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ইফতারের ফল এখন বিলাসিতা: লাগামহীন দামে নাভিশ্বাস ক্রেতার

হালনাগাদ সময় : ০৫:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ফলের দাম। ইফতারের টেবিলে ফল এখন আর সহজলভ্য নয়, বরং সাধারণ ক্রেতার জন্য বিলাসিতার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আকাশছোঁয়া দামে খেজুর, আপেল, কমলাসহ প্রায় সব ফলই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার, রায়সাহেব বাজারসহ কয়েকটি ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা দরে। মাল্টার কেজি ৩০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪০০ টাকা, আপেল ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪০০ টাকা, আনার ৪৮০ টাকা এবং কালো আঙুর ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ফলের মধ্যে পেয়ারা ১২০ টাকা, পেঁপে ১৫০ টাকা এবং বড়ই ১০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ খেজুরেও লেগেছে মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ছোঁয়া। মেখজুল খেজুর ১ হাজার ৬০০ টাকা, মরিয়ম ৯০০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের তিউনিসিয়ান খেজুর ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম বেড়েছে। রায়সাহেব বাজারের একজন খেজুর বিক্রেতা সাত্তার বলেন, “বিভিন্ন অজুহাতে পাইকারি বিক্রেতারাই দাম বাড়ায়, আমরা তো শুধু খুচরা বিক্রি করি।” সদরঘাটের বাদামতলীর তাওয়াককুল এন্টারপ্রাইজের মালিক সুমন জানান, “খেজুরের সরবরাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় এবং বন্দর থেকে মাল ডেলিভারি না হওয়ায় কিছু জাতের দাম বেড়েছে।” বাদামতলীতে খেজুর কিনতে আসা সাকিব নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রমজানের শুরুতে এক দফা দাম বাড়ে, এখন আবার ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি জরুরি।”

কলার বাজারে দেখা গেছে, দেশি কলার ডজন ১২০ টাকা, সবরি ১৮০ টাকা এবং সাগর কলার ডজন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লক্ষ্মীবাজারের কলা বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন ফলন কম হওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া নতুন তরমুজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায় এবং প্রতি পিস ৩০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। রায়সাহেব বাজারের হারুন ফুডসের মালিক হারুন জানান, “সিজন এলে তরমুজের দাম কমবে। তবে অন্যান্য বিদেশি ফলের দাম আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আরও বাড়তে পারে।”

হারুন আরও জানান, বর্তমানে ফুজি আপেল প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান আপেল ৩২০ টাকা এবং বিদেশি গ্রিন আপেল ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি কমলার দামও আকৃতি ও প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে দেশি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজিতে। সব মিলিয়ে, রমজানে ফলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের ইফতারের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।

Share this news as a Photo Card