বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা—করব্যবস্থার সংস্কার এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে আমদানি সুবিধা সম্প্রসারণ—প্রতিফলিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি মনে করে, সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর-সুবিধা বৃদ্ধি এবং মধ্যমেয়াদি নীতিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক।
বিকেএমইএ-র মতে, উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয় বা ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সময়মতো এই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধন আটকে যায় এবং তারল্য সংকট তৈরি হয়, যা ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় ও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করে। এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট নীতিনির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।
সংগঠনটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর কর-সুবিধা সম্প্রসারণকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলেও মত দিয়েছে তারা।
তবে, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির মতে, দেশে বর্তমানে এই পণ্যের উৎপাদন মোট চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার উদ্যোগ যেন আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এখনো শিল্প খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ সুদহার বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করলেও এর সফলতা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করে বিকেএমইএ। সংগঠনটির মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে এ বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
রিপোর্টারের নাম 

























