পবিত্র রমজান মাসের ১৪তম তারাবিতে আজ তিলাওয়াত করা হবে পবিত্র কুরআনের ১৭তম পারা। আজকের তারাবিতে সূরা আম্বিয়া ও সূরা হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পঠিত হবে। ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহিদ, রিসালাত এবং আখেরাতের বর্ণনার পাশাপাশি এই অংশে হজের গুরুত্ব ও মানবজীবনের পরিণতির কথা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
সূরা আম্বিয়া: পরকাল ভাবনা ও নবীদের জীবন
মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরার মূল বিষয়বস্তু হলো পরকাল এবং আল্লাহর একত্ববাদ। সূরার শুরুতেই মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, কিয়ামত অত্যন্ত নিকটবর্তী, অথচ মানুষ উদাসীনতায় নিমজ্জিত। এই সূরায় ১৮ জন নবী ও রাসুলের উল্লেখ থাকায় একে ‘সূরা আম্বিয়া’ বলা হয়। এছাড়া দোয়া কবুলের বিশেষ বর্ণনার কারণে এটি ‘সূরা ইস্তিজাবা’ নামেও পরিচিত।
সূরায় সৃষ্টিজগতের সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আকাশ, পৃথিবী, চন্দ্র-সূর্য এবং দিবা-রাত্রির পর্যায়ক্রমিক আবর্তন যে কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এক মহান স্রষ্টার সুনিপুণ পরিকল্পনা—তা এখানে স্পষ্টভাবে বর্ণিত। নবী-রাসুলদের জীবনের নানা পরীক্ষা ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে মুমিনদের ধৈর্য ও বিশ্বাসের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য ‘রহমত’ বা আশীর্বাদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সূরা হজ: আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মহিমা
মদিনায় অবতীর্ণ সূরা হজে মূলত ইবাদতের আধ্যাত্মিক ও প্রায়োগিক দিকগুলো আলোচিত হয়েছে। সূরার প্রারম্ভে কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং মৃত ভূমি যেভাবে বৃষ্টির ছোঁয়ায় সজীব হয়ে ওঠে, তার উদাহরণ দিয়ে পুনরুত্থান দিবসের যৌক্তিকতা প্রমাণ করা হয়েছে।
এই সূরার একটি বিশেষ দিক হলো হযরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক কাবা ঘর নির্মাণ এবং বিশ্ববাসীর প্রতি হজের আহ্বানের বর্ণনা। হজের বিধান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এর মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এছাড়া কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস নয়, বরং বান্দার অন্তরের ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতিই যে আল্লাহর কাছে পৌঁছায়, সেই চিরন্তন সত্যটি এখানে অত্যন্ত জোরালোভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে।
সূরার শেষাংশে মুমিনদের চারটি বিশেষ গুণের কথা বলা হয়েছে—আল্লাহর প্রতি ভয়, বিপদে ধৈর্য, নিয়মিত সালাত কায়েম এবং জনকল্যাণে দান। এছাড়া সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে (জিহাদ) আত্মরক্ষার অনুমতি প্রদান করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহই মুমিনদের সর্বোত্তম অভিভাবক ও সাহায্যকারী।
আজকের তারাবিতে পঠিতব্য এই অংশগুলো আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরকালের প্রস্তুতির জন্য তাকওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ পাথেয়।
রিপোর্টারের নাম 

























