ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জে মধুমতির বুকে পর্যটনের হাতছানি: দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর ‘মিনি কক্সবাজার’

মধুমতি নদীর স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর ধূ ধূ বালুচর—সব মিলিয়ে এক টুকরো কক্সবাজার যেন উঠে এসেছে গোপালগঞ্জের নিভৃত পল্লীতে। জেলার সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চর মাটলা এলাকায় মধুমতি নদীর বুকে জেগে ওঠা এক বিশাল চর এখন ভ্রমণপিপাসুদের প্রধান আকর্ষণ। স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই স্থানটি এখন প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চরের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে পর্যটকদের ঢল নামছে।

গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই চরটি মূলত জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে তার রূপ পরিবর্তন করে। ভাটির সময় যখন বিশাল বালুচর জেগে ওঠে, তখন নদীর নীল জল আর বালুর মিতালি এক নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে। পর্যটকরা এখানে এসে ফুটবল খেলা, স্বচ্ছ জলে স্নান করা কিংবা বালুচরে ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে সমুদ্র সৈকতের আমেজ খুঁজে পাচ্ছেন। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনগুলোতে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের।

পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে লেগেছে নতুন প্রাণের ছোঁয়া। নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। পর্যটক পারাপারে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্রলার মাঝিরা। স্থানীয় যুবকরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় কাজ করছেন। এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে ছোটখাটো ব্যবসা করে বাড়তি আয় করছে। পর্যটকদের জন্য জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকায় ট্রলার ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাত্র ১০০ টাকার মধ্যেই যে কেউ এই ‘মিনি কক্সবাজারের’ আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন।

বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে আসা পর্যটক সৈকত মোল্লা জানান, লোকমুখে শুনে এখানে এসে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আনন্দ পেয়েছেন তিনি। তবে নারী পর্যটকদের জন্য পোশাক পরিবর্তনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলে এটি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। নড়াইলের লোহাগড়া থেকে আসা ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, “পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা। মধুমতির এই রূপ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছর ছোট পরিসরে চরটি জেগে উঠলেও এবার তা বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চরের পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে যাতায়াতের রাস্তার শেষ অংশটুকু কিছুটা নাজুক থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, সেই অংশের সংস্কার কাজের টেন্ডার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন এই উদীয়মান পর্যটন কেন্দ্রটিকে ঘিরে ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না, তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যথাযথ তদারকি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এই ‘মিনি কক্সবাজার’ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

গোপালগঞ্জে মধুমতির বুকে পর্যটনের হাতছানি: দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর ‘মিনি কক্সবাজার’

আপডেট সময় : ১০:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মধুমতি নদীর স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর ধূ ধূ বালুচর—সব মিলিয়ে এক টুকরো কক্সবাজার যেন উঠে এসেছে গোপালগঞ্জের নিভৃত পল্লীতে। জেলার সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চর মাটলা এলাকায় মধুমতি নদীর বুকে জেগে ওঠা এক বিশাল চর এখন ভ্রমণপিপাসুদের প্রধান আকর্ষণ। স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই স্থানটি এখন প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চরের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে পর্যটকদের ঢল নামছে।

গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই চরটি মূলত জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে তার রূপ পরিবর্তন করে। ভাটির সময় যখন বিশাল বালুচর জেগে ওঠে, তখন নদীর নীল জল আর বালুর মিতালি এক নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে। পর্যটকরা এখানে এসে ফুটবল খেলা, স্বচ্ছ জলে স্নান করা কিংবা বালুচরে ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে সমুদ্র সৈকতের আমেজ খুঁজে পাচ্ছেন। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনগুলোতে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের।

পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে লেগেছে নতুন প্রাণের ছোঁয়া। নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। পর্যটক পারাপারে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্রলার মাঝিরা। স্থানীয় যুবকরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় কাজ করছেন। এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে ছোটখাটো ব্যবসা করে বাড়তি আয় করছে। পর্যটকদের জন্য জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকায় ট্রলার ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাত্র ১০০ টাকার মধ্যেই যে কেউ এই ‘মিনি কক্সবাজারের’ আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন।

বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে আসা পর্যটক সৈকত মোল্লা জানান, লোকমুখে শুনে এখানে এসে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আনন্দ পেয়েছেন তিনি। তবে নারী পর্যটকদের জন্য পোশাক পরিবর্তনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলে এটি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। নড়াইলের লোহাগড়া থেকে আসা ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, “পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা। মধুমতির এই রূপ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছর ছোট পরিসরে চরটি জেগে উঠলেও এবার তা বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চরের পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে যাতায়াতের রাস্তার শেষ অংশটুকু কিছুটা নাজুক থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, সেই অংশের সংস্কার কাজের টেন্ডার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন এই উদীয়মান পর্যটন কেন্দ্রটিকে ঘিরে ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না, তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যথাযথ তদারকি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এই ‘মিনি কক্সবাজার’ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।