আর্থিক সংকটে জর্জরিত এক মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহযোগিতায় সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ওই শিক্ষার্থীর অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা ক্যাম্পাসে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান ওই শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান পেলেও ভর্তি ফি এবং আনুষঙ্গিক খরচ জোগাড় করতে পারছিলেন না। ফলে উচ্চশিক্ষা লাভের স্বপ্ন তার কাছে প্রায় অধরাই মনে হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে বিষয়টি প্রকাশিত হলে তা মো. শাহরিয়ার হোসেনের নজরে আসে।
বিষয়টি জানার পর শাহরিয়ার হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তিনি শুধু ভর্তি ফি পরিশোধেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সার্বিকভাবে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেন। এমনকি গ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থীর আবাসন সংকট নিরসনেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
এ বিষয়ে মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অর্থাভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত না হয়, তবে তার কোনো মূল্য থাকে না। আমরা চাই, ক্যাম্পাসে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠুক যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অপরের শক্তি ও ভরসা হয়ে উঠবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আজ যাকে সহযোগিতা করা হলো, সে একদিন নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে অন্যদের পাশে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতেও কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়লে আমরা সাধ্যমতো পাশে থাকব।”
সহযোগিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থী জানান, গ্রাম থেকে শহরে এসে ভর্তি হওয়া এবং আবাসনের ব্যবস্থা করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। শাহরিয়ার হোসেন তার মেসের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অর্থাভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, এটি আমরা চাই না।”
রিপোর্টারের নাম 























