মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:০৬ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা: আট মাসে আয় কমেছে ৩.১৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতির অবনতি

  • হালনাগাদ সময় : ১০:২৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশের পণ্য রপ্তানি বাণিজ্যে মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মূলত তৈরি পোশাক খাতের মন্থর গতি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধস নামায় এই নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানিকারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশ মোট ৩১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এ মাসে রপ্তানি আয় নেমে এসেছে মাত্র ৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে, যা জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। এমনকি গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই আয় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জানুয়ারিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির কিছুটা আভাস পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং পণ্য চালান কমে যাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এখনো রপ্তানি আয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও এই খাতে প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক নয়। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে। তবে পোশাকের পাশাপাশি কৃষি পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল খাতের আয়ও কমেছে। এর বিপরীতে ওষুধ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় কিছুটা বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সংঘাতময় পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় আরও কমতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি (৫৫ বিলিয়ন) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল, যা ছিল আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। তবে বর্তমান অর্থবছরের শুরু থেকেই রপ্তানি আয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি কীর্তি ও রাধিকা, ওটিটিতে ঝড় তুলেছে ‘আক্কা’

30 October 2026

তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের সিনেমা 'মাস্টার'

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা: আট মাসে আয় কমেছে ৩.১৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতির অবনতি

হালনাগাদ সময় : ১০:২৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশের পণ্য রপ্তানি বাণিজ্যে মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মূলত তৈরি পোশাক খাতের মন্থর গতি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধস নামায় এই নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানিকারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশ মোট ৩১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এ মাসে রপ্তানি আয় নেমে এসেছে মাত্র ৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে, যা জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। এমনকি গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই আয় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জানুয়ারিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির কিছুটা আভাস পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং পণ্য চালান কমে যাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এখনো রপ্তানি আয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও এই খাতে প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক নয়। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে। তবে পোশাকের পাশাপাশি কৃষি পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল খাতের আয়ও কমেছে। এর বিপরীতে ওষুধ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় কিছুটা বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সংঘাতময় পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় আরও কমতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি (৫৫ বিলিয়ন) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল, যা ছিল আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। তবে বর্তমান অর্থবছরের শুরু থেকেই রপ্তানি আয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card