ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

আদালতকে ব্যবহার করে সংস্কারে বাধা দিচ্ছে বিএনপি: এনসিপির অভিযোগ

জাতীয় সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পথে বিএনপি আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে বিএনপি একটি ‘দ্বিমুখী নীতি’ বা ডুয়েল গেম খেলছে।

সোমবার (তারিখ অনুযায়ী) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির নেতারা। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আদালতে বর্তমানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আগে থেকেই শঙ্কিত ছিলাম। এটি এখন স্পষ্ট যে, এই নেপথ্যে কারা সক্রিয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগেও জনগণকে আদালতের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, এখন আবার সেই একই অপকৌশল দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বাইরে সংস্কারের প্রতি উদারতা দেখালেও ভেতরে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা মূলত সিলেক্টিভ বা খণ্ডিত সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ৭২-এর সংবিধানকে রক্ষার লড়াই করছে। অথচ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একসময় এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। আজ তার উত্তরসূরিরা সেই সংবিধানকেই আঁকড়ে ধরছেন, যা প্রমাণ করে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আসিফ মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপি প্রকারান্তরে বর্তমান সরকারের বৈধতাকেই চ্যালেঞ্জ করছে। যদি আদালতের রায়ে সংস্কার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে বর্তমান সংসদও বাতিলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ একই আইনি কাঠামোর অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটির উপ-প্রধান ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পন্ন হয়েছে। এখন সেই মীমাংসিত বিষয়গুলোকে আদালতে নিয়ে যাওয়া একটি ন্যক্কারজনক নজির। এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল বিচার বিভাগ ও জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা নির্বাচনের আগে গণভোট চেয়েছিলাম, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপির প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলাম। এখন মীমাংসিত রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জলঘোলা করা তাদের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিচার বিভাগকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কারকে বাইপাস করার চেষ্টা করলে বিএনপি নিজেই জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটির সদস্য জহিরুল হক মুসা, মনিরা শারমিন, সালেহ উদ্দিন সিফাত ও ফরিদুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন: মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দায়ীদের বিচারের দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির

আদালতকে ব্যবহার করে সংস্কারে বাধা দিচ্ছে বিএনপি: এনসিপির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পথে বিএনপি আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে বিএনপি একটি ‘দ্বিমুখী নীতি’ বা ডুয়েল গেম খেলছে।

সোমবার (তারিখ অনুযায়ী) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির নেতারা। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আদালতে বর্তমানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আগে থেকেই শঙ্কিত ছিলাম। এটি এখন স্পষ্ট যে, এই নেপথ্যে কারা সক্রিয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগেও জনগণকে আদালতের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, এখন আবার সেই একই অপকৌশল দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বাইরে সংস্কারের প্রতি উদারতা দেখালেও ভেতরে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা মূলত সিলেক্টিভ বা খণ্ডিত সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ৭২-এর সংবিধানকে রক্ষার লড়াই করছে। অথচ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একসময় এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। আজ তার উত্তরসূরিরা সেই সংবিধানকেই আঁকড়ে ধরছেন, যা প্রমাণ করে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আসিফ মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপি প্রকারান্তরে বর্তমান সরকারের বৈধতাকেই চ্যালেঞ্জ করছে। যদি আদালতের রায়ে সংস্কার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে বর্তমান সংসদও বাতিলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ একই আইনি কাঠামোর অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটির উপ-প্রধান ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পন্ন হয়েছে। এখন সেই মীমাংসিত বিষয়গুলোকে আদালতে নিয়ে যাওয়া একটি ন্যক্কারজনক নজির। এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল বিচার বিভাগ ও জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা নির্বাচনের আগে গণভোট চেয়েছিলাম, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপির প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলাম। এখন মীমাংসিত রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জলঘোলা করা তাদের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিচার বিভাগকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কারকে বাইপাস করার চেষ্টা করলে বিএনপি নিজেই জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটির সদস্য জহিরুল হক মুসা, মনিরা শারমিন, সালেহ উদ্দিন সিফাত ও ফরিদুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।