ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ। সোমবার দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই শোক জানানো হয়। সংগঠনের মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, রাহবার, সাইয়্যেদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদ মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আয়াতুল্লাহ খামেনি ছিলেন দৃঢ় ঈমান, আপসহীন নীতি এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মুসলিম উম্মাহকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অত্যাচারীর সামনে মাথা নত করা ঈমানের শিক্ষা হতে পারে না। তাঁর কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত কারবালার চেতনা, যেখানে ইমাম হুসাইন (রা.) বলেছিলেন, “আমার মতো ব্যক্তি কখনো ইয়াজিদের মতো কারও কাছে বাইআত নেবে না,” তা আজও প্রাসঙ্গিক। এই আহ্বান আজও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে যে, একটি জাতি তার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঈমানি চেতনা ধারণ করে অন্যায় ও দখলদারিত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। শক্তির দম্ভ, নিষ্পেষণ এবং রক্তপাতের রাজনীতির বিপরীতে তিনি আত্মমর্যাদা, প্রতিরোধ ও ন্যায়ের বার্তা রেখে গেছেন।
মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি বলেন, “আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহ তা’আলা তাঁর শাহাদাত কবুল করুন, তাঁর ত্যাগ উম্মাহর জাগরণের অনুপ্রেরণা হোক এবং মুসলিম বিশ্বকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন।” তিনি আরও বলেন, “মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আলোচনার টেবিলে বসার পরও ইরানে হামলা চালানো এবং বেসামরিক জনগণকে হত্যা করা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, “আমরা ইরানের সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের সংহতি প্রকাশ করছি। নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে নিহত সকল শহীদানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহপাক তাদের জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করুন।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, রক্ত কখনো বৃথা যায় না। ত্যাগ কখনো মুছে যায় না। সত্যের পতাকা একদিন মিথ্যাকে ভূলুণ্ঠিত করে আরও উঁচুতে উড়বেই, ইনশাআল্লাহ।”
রিপোর্টারের নাম 
























