মহান আল্লাহভীতিকে মানবতাবাদী সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এমন এক মানবিক সমাজ গড়তে চাই যেখানে পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সবাই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ পোষণ করবে। মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল সমাজে সংঘাত ও বিভেদ জিইয়ে রাখতে চায়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহকে ভয় করলেই কেবল এমন মানবদরদী সমাজ গড়া সম্ভব। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের হাত ধরে সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও মানুষ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি রমজান মাস যেন ধ্বংস নয়, বরং রহমত হয়ে আসে, সেই দোয়া করেন।
জামায়াত আমির বর্তমান সমাজে মালিক-শ্রমিক সংঘাতের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মালিক ও শ্রমিক উভয়েই একে অপরের পরিপূরক। মালিক আছেন বলেই শ্রমিক কাজের সুযোগ পান, আবার শ্রমিকরা আছেন বলেই শিল্প প্রতিষ্ঠান সচল থাকে। উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তিনি মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান, যা একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাইলেই এমন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে পারি, কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সংঘাত ও প্রতিহিংসা জিইয়ে রাখতে চায়। তাদের এই অপচেষ্টা বিভিন্ন জনহিতকর উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ করে দেয়। ইসলাম তার পূর্ণাঙ্গ বিধান সব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ডা. শফিকুর রহমান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে শ্রমিকদের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করার এবং তাদের অধিকার রক্ষায় যোদ্ধা হয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সংগঠনের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে, শেষ হয়নি। নির্বাচনের আগে শ্রমিকদের চোখে মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা তিনি দেখেছেন, তা এখনো পূরণ হয়নি। স্বল্প বেতনের শ্রমিকদের দাসত্বের জীবন কাটানোকে তিনি অমানবিক উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে মানবতা কোথায় থাকে? একজন বয়স্ক মানুষের স্বেচ্ছায় কাজ করা ভালো, কিন্তু স্বল্প আয়ের কারণে সবার জুতা পরিষ্কার করতে বাধ্য হওয়া অমানবিক।
তিনি আল্লাহর দেওয়া সকল নেয়ামতের জন্য হাশরের দিনে জবাবদিহিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বিশেষ করে, অক্সিজেনের গুরুত্ব করোনার সময় সবাই উপলব্ধি করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। যারা আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় অন্তরে ধারণ করবে, তারাই আল্লাহকে ভয় করবে এবং তাদের হাতেই সকল সৃষ্টি নিরাপদ থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াত আমির আরও বলেন, আল্লাহর এখতিয়ার নিয়ে কেউ টানাটানি করলে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার চিন্তা থাকলে কোনো মানুষ অন্য মানুষের হক নষ্ট করতে, ইজ্জত লুণ্ঠন করতে বা কাউকে আঘাত করতে পারে না। আল্লাহর বিধান মানলে সবাই সবাইকে যথাযথ সম্মান ও ভালোবাসা দেবে।
তিনি রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, সমাজের বিত্তশালীদের চেয়ে শ্রমিকরা ৫০০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। ডা. শফিকুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে শিশু ও শ্রমিক—এই দুই শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মিলে আনন্দ পান জানিয়ে বলেন, অনেকে শ্রমিকের হাতে হাত মেলালে রুমাল দিয়ে হাত মুছে নেন। কিন্তু তার চিন্তা ভিন্ন; তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে বুক মেলানোর চেষ্টা করেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের পরিচালনায় ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 
























