ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রপতির ভাষণে সংসদ শুরু হলে ৩শ এমপিকে জবাবদিহি করতে হবে: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে কোনোভাবেই নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু করা যাবে না। যদি এমনটি ঘটে, তবে সংসদের ৩০০ সদস্যকেই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সংসদের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। আমরা আশা করি, ফ্যাসিবাদের সর্বশেষ উচ্ছিষ্ট হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মাধ্যমে আপনারা প্রথম অধিবেশনকে কলঙ্কিত করবেন না।” অন্যথায় দেশের আপামর জনসাধারণের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

‘জুলাই সনদ’ নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, এই সনদকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা আগে থেকেই চলছিল। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার সময় বিএনপির বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে আদালতের মাধ্যমে ভিন্ন পথে হাঁটার যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, সাম্প্রতিক শুনানিগুলোতে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের যে বিষয়গুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন যাচাই করা হয়েছিল, এখন সেখান থেকে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ বা পছন্দমতো বাছাই পদ্ধতিতে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাবকে তিনি ‘পপুলিস্ট উদারতা’ হিসেবে আখ্যা দেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা যেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধীনে শপথ গ্রহণ করেন। অন্যথায় যে আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার লঙ্ঘন হবে এবং এর ফলে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সংবিধান পুনর্লিখনের পথে না গিয়ে আবারও সংশোধনের পথে হাঁটছে। তার মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে টিকিয়ে রাখার নাম করে আবারও দলীয় স্বার্থে কাটাছেঁড়া করার পুরনো ধারা বজায় রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন সংবিধান রচনার ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

একটি সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে এনসিপি কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াই অব্যাহত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন: মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দায়ীদের বিচারের দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির

রাষ্ট্রপতির ভাষণে সংসদ শুরু হলে ৩শ এমপিকে জবাবদিহি করতে হবে: আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে কোনোভাবেই নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু করা যাবে না। যদি এমনটি ঘটে, তবে সংসদের ৩০০ সদস্যকেই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সংসদের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। আমরা আশা করি, ফ্যাসিবাদের সর্বশেষ উচ্ছিষ্ট হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মাধ্যমে আপনারা প্রথম অধিবেশনকে কলঙ্কিত করবেন না।” অন্যথায় দেশের আপামর জনসাধারণের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

‘জুলাই সনদ’ নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, এই সনদকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা আগে থেকেই চলছিল। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার সময় বিএনপির বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে আদালতের মাধ্যমে ভিন্ন পথে হাঁটার যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, সাম্প্রতিক শুনানিগুলোতে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের যে বিষয়গুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন যাচাই করা হয়েছিল, এখন সেখান থেকে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ বা পছন্দমতো বাছাই পদ্ধতিতে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাবকে তিনি ‘পপুলিস্ট উদারতা’ হিসেবে আখ্যা দেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা যেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধীনে শপথ গ্রহণ করেন। অন্যথায় যে আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার লঙ্ঘন হবে এবং এর ফলে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সংবিধান পুনর্লিখনের পথে না গিয়ে আবারও সংশোধনের পথে হাঁটছে। তার মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে টিকিয়ে রাখার নাম করে আবারও দলীয় স্বার্থে কাটাছেঁড়া করার পুরনো ধারা বজায় রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন সংবিধান রচনার ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

একটি সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে এনসিপি কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াই অব্যাহত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।