কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কের সংস্কার ও নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন। কাজের নিম্নমান ও জনভোগান্তির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শনিবার সকাল ১০টায় তিনি উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে কঠোর নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে বুড়িচং পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটারের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ছিল। সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি লাঘবে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজের কার্যাদেশ পায়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই ধীরগতি এবং নিয়মিত পানি ব্যবহার না করায় ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন যাত্রী ও চালকরা। অভিযোগ রয়েছে, পিচ ঢালাইয়ের সময় দুর্নীতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ঢালাইয়ের মাত্র ১৮ দিন পার হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাচ্ছে এবং সড়ক দেবে যাচ্ছে।
সড়কের এমন বেহাল দশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয়দের ক্ষোভ এবং সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনের নজরে আসে। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে আমি আজ পরিদর্শনে এসেছি। কাজের মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি। ঠিকাদার ও সওজ কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, জনগণের এই রাস্তা যেন যথাযথ মান বজায় রেখে টেকসইভাবে সম্পন্ন করা হয়।”
পরিদর্শনকালে স্থানীয় ছাত্রনেতা দিদারুল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন এই রাস্তাটি আমাদের ভোগান্তির কারণ ছিল। বর্তমানে কাজ চললেও তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। অনেক জায়গায় এখনই ফাটল দেখা দিচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই সংসদ সদস্যের এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একটি টেকসই রাস্তা নিশ্চিত হোক।”
ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা যোবায়ের হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পালপাড়া, ভরাসার এবং গাজীপুর এলাকায় এতটাই নিম্নমানের কাজ হয়েছে যে গাড়ি চললে রাস্তা কাঁপতে থাকে। কোটি কোটি টাকার কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের নীরবতা আমাদের হতাশ করেছিল, তবে এমপি মহোদয় নিজে আসায় আমরা এখন সুষ্ঠু সমাধানের আশা করছি।”
সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, কাজের মান শেষ পর্যন্ত কতটা উন্নত হয়—সেদিকেই এখন নজর সবার।
রিপোর্টারের নাম 






















