ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজারে চুরির মামলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতন করে ও গুলি করার হুমকি দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় পাঁচ ব্যবসায়ী এবং বাংলাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জড়িত বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই শিশুর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও চার নির্দোষ ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন, যাদের মধ্যে একজন বর্তমানে জামিনে থাকলেও অভিভাবকহীন শিশুটি এখনো খুলনার কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি রয়েছে।
অভিযোগ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. কামালের সুপারি চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা আসামি করে দৌলতখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে অজ্ঞাত আসামি চিহ্নিত করতে না পারায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মিরাজ কাজী, মাহাবুব, ফরহাদ, জিলন ও ফয়েজ টাকার বিনিময়ে শিশু বিল্লালকে ধরে আনেন। অভিযুক্ত ফয়েজ সম্পর্কে শিশু বিল্লালের আপন মামা (ভাগনে – nephew, son of sister, so Foyez is maternal uncle).
অভিযোগ অনুযায়ী, মিরাজ কাজীর দোকানে শিশু বিল্লালের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় বাংলাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ইবরাহিম তাদের সহযোগিতা করেন এবং শিশুটিকে গুলি করার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ভয়ে ভীত হয়ে বিল্লাল নির্যাতকদের কথামতো চুরির সঙ্গে নিজেকেসহ জুলাইযোদ্ধা সবুজ, কামাল, জামাল ও স্বপনের জড়িত থাকার মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়। বিল্লালের এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত ১৮ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী কামাল তার মামলায় উল্লেখিত পাঁচজনের নাম যুক্ত করেন।
এরপর পুলিশ বিল্লালসহ ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতে জানা যায়, নির্যাতনের মুখে বিল্লাল এই স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিল্লাল ছাড়া অন্য চার আসামিকে জামিন দেন। কিন্তু বিল্লালের কোনো অভিভাবক না থাকায় তাকে জামিন করানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সে খুলনার কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।
মিথ্যা মামলায় আসামি হয়ে জেল খাটা জুলাইযোদ্ধা সবুজ বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর এ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আসামি হতে হবে এটা কখনো আমি আশা করিনি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিল্লালকে নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত মিরাজ কাজী বলেন, “ছেলেটিকে আমার দোকানে সবাই ধরে নিয়ে এসেছে। আমি ছেলেটির কাছে ঘটনা জানতে চেয়েছি। এ ব্যাপারে আমি আর কিছু জানি না।” অভিযোগের বিষয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন মাহবুব, ফরহাদ, জিলন ও ফয়েজ।
তবে এএসআই ইবরাহিম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলতে পারবেন।” মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, শিশুটি যে জবানবন্দি দিয়েছে, সে অনুযায়ী মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে।
রিপোর্টারের নাম 

























