ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে যে, এই প্রতিশোধমূলক হামলায় সৌদি আরবের রিয়াদ, কাতারের আল-উদেইদ, কুয়েতের আল-সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এবং বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলায় আবুধাবিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও আবুধাবিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের দেশে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এই হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বাহরাইনে জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত একে ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে এবং এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, কাতারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের দেশ দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। কুয়েতেও হামলার পর সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে কাতার ও বাহরাইনে তাদের ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। এই অঞ্চলে ১২টিরও বেশি দেশে ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে ৫০ হাজারেরও বেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মী নিয়োজিত আছেন বলে ধারণা করা হয়। এসব ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা আছে। অনেক আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার এবং সিরিয়ার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে স্থায়ী স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করেন। বর্তমান হামলা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 




















