যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। এই হামলার বিস্তৃতি ছিল ইসরায়েল ছাড়িয়ে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত পর্যন্ত। তবে এই আক্রমণের মধ্যে বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আমিরাতের আবুধাবিতে একজনের প্রাণহানির ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে, তেহরান কেন উপসাগরীয় এই দেশটিকে তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু বানালো? এর নেপথ্যে রয়েছে এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ নিহিত আছে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আরব আমিরাত ও বাহরাইন। ইরানের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানের প্রেক্ষিতে, আমিরাতের এই চুক্তিকে তেহরান তাদের প্রতি এক ধরনের বৈরী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখে আসছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগ নতুন নয়। বহু বছর ধরেই বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পর্দার আড়ালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিল এই অঞ্চলের অনেক রাষ্ট্র। তবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে এই সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে, যা ইরানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৬ সালে ওমান ও কাতার ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য দপ্তর খুলেছিল, যদিও ২০০০ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু আব্রাহাম অ্যাকর্ড ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তি, যা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। সম্ভবত, ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক স্থাপনকারী দেশ হিসেবেই আরব আমিরাত ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















