নাটোরের গুরুদাসপুরে হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদাদাবির অভিযোগে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা (৩৫) নামের ওই নেতাকে শনিবার উপজেলার নাজিরপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনার পর জেলা যুবদল শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাকিবুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ওবায়দুর রহমান তপু (৩৯) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে রাকিবুর রহমান রাজা তার কাছে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে তাকে চন্দপুর তুলাধুনা হাটে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং সেখানে গেলে “মেরে হাড্ডি গুড়া গুড়া করে ফেলবে” বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুলাধুনা বাজার ইজারা নেওয়া নিয়ে রাজা ও তপু উভয়েই দরপত্রে অংশ নেন। তপু বেশি মূল্যে সিডিউল জমা দিয়ে হাটটির ইজারা পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাকিবুর রহমান রাজা তপুর কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে টাকা সংক্রান্ত হুমকিসূচক বক্তব্য শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী তপু জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় তিনি গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে (মামলা নং ১৮)। মামলায় রাকিবুর রহমান রাজাসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রেপ্তারকৃত মো. রাকিবুর রহমান রাজা বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি ৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন, তবে তা চাঁদা নয়, বরং পাওনা টাকা।
এদিকে, নাটোর জেলা যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাকিবুর রহমান রাজাকে তার পদসহ সাধারণ সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জেলা যুবদলের সভাপতি এ. হাই. তালুকদার ডালিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করেন।
গুরুদাসপুর থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুজ্জামান সরকার জানান, মামলার ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























