ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাকৃবিতে ছাত্রদলের ‘আশ্রয়ে’ ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা: শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তেজনা, হল ছাড়ল ৩ জন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদলের এক নেতার ছত্রছায়ায় আবাসিক হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হলে এই ঘটনা ঘটে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের হল থেকে সরিয়ে নেয়।

হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাত আনুমানিক ১২টার দিকে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলার ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের ৫ জন কর্মীকে অবৈধভাবে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শফিকুল রহমান শফিকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছিল। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

রাত বারোটার পরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভাসানী হলে হবে না’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হল এলাকা। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মীদের হল থেকে বিতাড়িত করার দাবি জানান। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ছাত্রদলের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে হল প্রভোস্টকে বিষয়টি জানান। প্রভোস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রক্টরিয়াল বডির নিজস্ব গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আগেই হল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম জানান, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই হল প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে আমাদের গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

তবে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক। তিনি বলেন, ‘হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদেরকে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমার বা আমার কোনো কর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো—ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের এই ক্যাম্পাসে কোনো ঠাঁই হবে না। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসিত হোক বা এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক, তা আমি কখনোই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল অনলাইনে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যারা গেস্টরুম কালচার ও র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের হলে না ওঠানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখনও বহাল আছে। এই ধরনের শিক্ষার্থীরা কখনোই হলে প্রবেশ করতে পারবে না। আমি এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে একটি চিঠিও দেবো। যদি কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকে এবং ছাত্ররা প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করে, তবে হল প্রশাসন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছাড়লেন ড. ইউনূস, ফিরছেন গুলশানের বাসভবনে

বাকৃবিতে ছাত্রদলের ‘আশ্রয়ে’ ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা: শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তেজনা, হল ছাড়ল ৩ জন

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদলের এক নেতার ছত্রছায়ায় আবাসিক হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হলে এই ঘটনা ঘটে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের হল থেকে সরিয়ে নেয়।

হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাত আনুমানিক ১২টার দিকে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলার ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের ৫ জন কর্মীকে অবৈধভাবে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শফিকুল রহমান শফিকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছিল। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

রাত বারোটার পরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভাসানী হলে হবে না’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হল এলাকা। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মীদের হল থেকে বিতাড়িত করার দাবি জানান। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ছাত্রদলের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে হল প্রভোস্টকে বিষয়টি জানান। প্রভোস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রক্টরিয়াল বডির নিজস্ব গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আগেই হল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম জানান, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই হল প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে আমাদের গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

তবে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক। তিনি বলেন, ‘হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদেরকে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমার বা আমার কোনো কর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো—ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের এই ক্যাম্পাসে কোনো ঠাঁই হবে না। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসিত হোক বা এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক, তা আমি কখনোই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল অনলাইনে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যারা গেস্টরুম কালচার ও র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের হলে না ওঠানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখনও বহাল আছে। এই ধরনের শিক্ষার্থীরা কখনোই হলে প্রবেশ করতে পারবে না। আমি এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে একটি চিঠিও দেবো। যদি কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকে এবং ছাত্ররা প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করে, তবে হল প্রশাসন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’