ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জ্ঞান ও সভ্যতার ১০৮৬ বছরের ঐতিহ্য: আল-আজহারের মহিমান্বিত পথচলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ইসলামি জ্ঞানচর্চা, ইবাদত ও মুসলিম সভ্যতার এক অনবদ্য প্রতীক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি উদযাপন করেছে তার ১০৮৬ বছরের গৌরবময় পথচলা। ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় এই প্রতিষ্ঠান কেবল একটি মসজিদ বা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় ঐক্য ও জ্ঞানান্বেষণের এক অবিচ্ছেদ্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মসজিদ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি অধ্যাপক ড. নাজির আইয়াদ আল-আজহারের অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আল-আজহার কোনো শাসকের ক্ষমতা বা পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠেনি, বরং এর ভিত্তি কেবল জ্ঞানের অদম্য শক্তি। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর খেয়াল-খুশির ফসল নয়, বরং পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর অকাট্য ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত।’

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. সালামা জুমা দাউদ তার বক্তব্যে আল-আজহারের পণ্ডিতদের অতুলনীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আল-আজহারের পণ্ডিতরা ছিলেন জ্ঞানের এক সুবিশাল মহাসমুদ্র, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ তাদের বিস্তৃত চিন্তা ও জ্ঞানভান্ডার থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করত। তাদের অনেকেই ছিলেন বহুমাত্রিক ও বিশ্বকোষীয় জ্ঞানের অধিকারী।’

ঐতিহাসিক সূত্রমতে, কায়রো নগরী প্রতিষ্ঠার পরপরই আল-আজহারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ লি দ্বিনিল্লাহর উদ্যোগে ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মাত্র ২৭ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় এবং ৩৬১ হিজরির ৭ রমজান (২১ জুন ৯৭২ খ্রিস্টাব্দ), শুক্রবার—প্রথমবারের মতো এখানে জামাতে সালাত আদায় করা হয়। সেই দিন থেকেই সূচনা ঘটে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক নিরবচ্ছিন্ন ও সুদীর্ঘ যাত্রার।

পরবর্তীকালে, ১১৭২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সালাউদ্দিন আল আইয়ুবী আল-আজহারকে চার মাযহাবের আদলে সুন্নি ইসলামের একটি কেন্দ্রীয় মারকাজে রূপান্তর করেন। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ধারায় প্রবেশ করে এবং সুন্নি জ্ঞানচর্চার এক বিশ্বজনীন ও প্রভাবশালী কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হতে থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ভারতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

জ্ঞান ও সভ্যতার ১০৮৬ বছরের ঐতিহ্য: আল-আজহারের মহিমান্বিত পথচলা

আপডেট সময় : ০৭:১৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামি জ্ঞানচর্চা, ইবাদত ও মুসলিম সভ্যতার এক অনবদ্য প্রতীক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি উদযাপন করেছে তার ১০৮৬ বছরের গৌরবময় পথচলা। ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় এই প্রতিষ্ঠান কেবল একটি মসজিদ বা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় ঐক্য ও জ্ঞানান্বেষণের এক অবিচ্ছেদ্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মসজিদ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি অধ্যাপক ড. নাজির আইয়াদ আল-আজহারের অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আল-আজহার কোনো শাসকের ক্ষমতা বা পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠেনি, বরং এর ভিত্তি কেবল জ্ঞানের অদম্য শক্তি। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর খেয়াল-খুশির ফসল নয়, বরং পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর অকাট্য ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত।’

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. সালামা জুমা দাউদ তার বক্তব্যে আল-আজহারের পণ্ডিতদের অতুলনীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আল-আজহারের পণ্ডিতরা ছিলেন জ্ঞানের এক সুবিশাল মহাসমুদ্র, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ তাদের বিস্তৃত চিন্তা ও জ্ঞানভান্ডার থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করত। তাদের অনেকেই ছিলেন বহুমাত্রিক ও বিশ্বকোষীয় জ্ঞানের অধিকারী।’

ঐতিহাসিক সূত্রমতে, কায়রো নগরী প্রতিষ্ঠার পরপরই আল-আজহারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ লি দ্বিনিল্লাহর উদ্যোগে ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মাত্র ২৭ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় এবং ৩৬১ হিজরির ৭ রমজান (২১ জুন ৯৭২ খ্রিস্টাব্দ), শুক্রবার—প্রথমবারের মতো এখানে জামাতে সালাত আদায় করা হয়। সেই দিন থেকেই সূচনা ঘটে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক নিরবচ্ছিন্ন ও সুদীর্ঘ যাত্রার।

পরবর্তীকালে, ১১৭২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সালাউদ্দিন আল আইয়ুবী আল-আজহারকে চার মাযহাবের আদলে সুন্নি ইসলামের একটি কেন্দ্রীয় মারকাজে রূপান্তর করেন। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ধারায় প্রবেশ করে এবং সুন্নি জ্ঞানচর্চার এক বিশ্বজনীন ও প্রভাবশালী কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হতে থাকে।