ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাপানের শ্রমবাজার ধরতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা: দক্ষ কর্মী পাঠাতে ৭ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিপুল সংখ্যক যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে সেখানে প্রেরণে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আগামী সাত দিনের মধ্যে তার কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার ধারাবাহিকতায় রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত শনিবার ‘আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ যুবক শ্রেণির কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে, যেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে। কীভাবে এই বিপুলসংখ্যক তরুণকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করা যায়, তা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ মূলত অদক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে থাকে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক রপ্তানির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, জাপানের প্রয়োজনীয় ট্রেডগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিক্ষা প্রদানের জন্য পূর্বে ৩৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। বর্তমানে জাপানের চাহিদা বিবেচনায় আরও ২০টি টিটিসি যুক্ত করে মোট ৫৩টি কেন্দ্রে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে জাপানি ভাষা শিক্ষকের অপ্রতুলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সভায় অধিক সংখ্যক জাপানি ভাষা শিক্ষক নিয়োগের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া, জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিদেশে শ্রমিক প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়। বাংলাদেশ কীভাবে অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে থেকে জাপানের শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী দুই কর্মদিবস পরেই পুনরায় ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

জাপানের শ্রমবাজার ধরতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা: দক্ষ কর্মী পাঠাতে ৭ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ

আপডেট সময় : ১০:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিপুল সংখ্যক যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে সেখানে প্রেরণে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আগামী সাত দিনের মধ্যে তার কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার ধারাবাহিকতায় রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত শনিবার ‘আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ যুবক শ্রেণির কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে, যেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে। কীভাবে এই বিপুলসংখ্যক তরুণকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করা যায়, তা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ মূলত অদক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে থাকে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক রপ্তানির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, জাপানের প্রয়োজনীয় ট্রেডগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিক্ষা প্রদানের জন্য পূর্বে ৩৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। বর্তমানে জাপানের চাহিদা বিবেচনায় আরও ২০টি টিটিসি যুক্ত করে মোট ৫৩টি কেন্দ্রে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে জাপানি ভাষা শিক্ষকের অপ্রতুলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সভায় অধিক সংখ্যক জাপানি ভাষা শিক্ষক নিয়োগের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া, জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিদেশে শ্রমিক প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়। বাংলাদেশ কীভাবে অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে থেকে জাপানের শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী দুই কর্মদিবস পরেই পুনরায় ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন।