ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা-সুদানে দেড় লাখ রোজাদারের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তায় টিম হাফেজ্জী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সংকটাপন্ন সুদানে প্রায় দেড় লাখ রোজাদারের জন্য ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশি সংস্থা টিম হাফেজ্জী। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভয়াবহ চিকিৎসা সংকট ও বাস্তুচ্যুত মানুষের চরম দুর্দশার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় ইতিমধ্যেই ১০ হাজার পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি করে আটা বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি গাজা ও সুদানে সবজি, ইফতার সামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি খাদ্যপণ্য নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে অন্তত ৭টি হাসপাতালে সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে টিম হাফেজ্জী। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা সহায়তা, পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ ও মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও টিম হাফেজ্জী স্থানীয় সমন্বয় ও স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংস্থাটি তাদের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভিডিও এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে তারিখ, দিন ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযুক্ত রাখে। প্রতি বছর ডিভিসি হোল্ডার চার্টার্ড একাউন্টেন্টের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ সংস্থাটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। আইনি পরামর্শ ও কাঠামোগত সহায়তার জন্য দেশের সুপরিচিত দুই ব্যারিস্টার, জনাব মুহসিন রশীদ ও জনাব আশিকুর রহমান, সংস্থাটির আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

টিম হাফেজ্জীর কার্যক্রম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। গাজা থেকে প্রায় ৭ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়েছে, যেখানে সংস্থাটির মানবিক উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের কার্যক্রমের বিষয়টি উঠে এসেছে। কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংস্থার প্রতিনিধিরা সরাসরি মিশরে গিয়ে সমন্বয় করছেন। শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় বিমানযোগে মিশর হয়ে গাজা ও সুদান ভূখণ্ডে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে। অনেকেই সরাসরি মিশরে উপস্থিত হয়ে টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতা পাঠাচ্ছেন।

দেশের অভ্যন্তরেও প্রত্যন্ত অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চল ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্যবাজার, ইফতার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে আসছে টিম হাফেজ্জী।

মানবিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, স্বচ্ছ অডিট ও সুসংগঠিত আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকে টিম হাফেজ্জী গাজা, সুদান ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা-সুদানে দেড় লাখ রোজাদারের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তায় টিম হাফেজ্জী

আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সংকটাপন্ন সুদানে প্রায় দেড় লাখ রোজাদারের জন্য ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশি সংস্থা টিম হাফেজ্জী। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভয়াবহ চিকিৎসা সংকট ও বাস্তুচ্যুত মানুষের চরম দুর্দশার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় ইতিমধ্যেই ১০ হাজার পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি করে আটা বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি গাজা ও সুদানে সবজি, ইফতার সামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি খাদ্যপণ্য নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে অন্তত ৭টি হাসপাতালে সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে টিম হাফেজ্জী। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা সহায়তা, পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ ও মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও টিম হাফেজ্জী স্থানীয় সমন্বয় ও স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংস্থাটি তাদের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভিডিও এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে তারিখ, দিন ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযুক্ত রাখে। প্রতি বছর ডিভিসি হোল্ডার চার্টার্ড একাউন্টেন্টের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ সংস্থাটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। আইনি পরামর্শ ও কাঠামোগত সহায়তার জন্য দেশের সুপরিচিত দুই ব্যারিস্টার, জনাব মুহসিন রশীদ ও জনাব আশিকুর রহমান, সংস্থাটির আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

টিম হাফেজ্জীর কার্যক্রম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। গাজা থেকে প্রায় ৭ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়েছে, যেখানে সংস্থাটির মানবিক উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের কার্যক্রমের বিষয়টি উঠে এসেছে। কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংস্থার প্রতিনিধিরা সরাসরি মিশরে গিয়ে সমন্বয় করছেন। শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় বিমানযোগে মিশর হয়ে গাজা ও সুদান ভূখণ্ডে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে। অনেকেই সরাসরি মিশরে উপস্থিত হয়ে টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতা পাঠাচ্ছেন।

দেশের অভ্যন্তরেও প্রত্যন্ত অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চল ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্যবাজার, ইফতার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে আসছে টিম হাফেজ্জী।

মানবিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, স্বচ্ছ অডিট ও সুসংগঠিত আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকে টিম হাফেজ্জী গাজা, সুদান ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।