ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

পিলখানা ট্র্যাজেডি: সার্বভৌমত্বে আঘাত ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ জরুরি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ও রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় কর্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই বর্বরোচিত ঘটনাকে জাতীয় ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা সেনানিবাসে ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০’র গণআন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। একই সাথে, ২০০৯ সালের পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি স্মরণে প্রকৃতি যেন শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় আজও গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়। ২০০৯ সালের এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজও বহমান।

তিনি বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠভারী হয়ে আসছে। তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে এবং সহযোদ্ধার সন্তানের মতো উপস্থিত হয়েছেন। ২০০৯ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম নিভে যাওয়া একটি পরিবারের আলো, প্রিয়জন হারানোর বেদনা, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার মর্মান্তিক ইতিহাস এবং একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি গত ১৭ বছরে তাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ এবং বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা উপলব্ধি করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, পিলখানা ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তাই, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় প্রোথিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই সময় সেনাবাহিনীর সাথে তদানীন্তন ইপিআর-এর সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সাথে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংগুলো পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর এবং দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি মনে করেন, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস। পিলখানা ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তাঁর সরকার কাজ করবে। একই সাথে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলের বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১১

পিলখানা ট্র্যাজেডি: সার্বভৌমত্বে আঘাত ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ জরুরি

আপডেট সময় : ০৮:১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ও রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় কর্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই বর্বরোচিত ঘটনাকে জাতীয় ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা সেনানিবাসে ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০’র গণআন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। একই সাথে, ২০০৯ সালের পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি স্মরণে প্রকৃতি যেন শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় আজও গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়। ২০০৯ সালের এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজও বহমান।

তিনি বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠভারী হয়ে আসছে। তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে এবং সহযোদ্ধার সন্তানের মতো উপস্থিত হয়েছেন। ২০০৯ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম নিভে যাওয়া একটি পরিবারের আলো, প্রিয়জন হারানোর বেদনা, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার মর্মান্তিক ইতিহাস এবং একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি গত ১৭ বছরে তাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ এবং বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা উপলব্ধি করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, পিলখানা ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তাই, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় প্রোথিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই সময় সেনাবাহিনীর সাথে তদানীন্তন ইপিআর-এর সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সাথে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংগুলো পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর এবং দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি মনে করেন, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস। পিলখানা ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তাঁর সরকার কাজ করবে। একই সাথে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।