ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

গণভোটের রায় সংবিধানের সমতুল্য, বাস্তবায়নে বাধ্য রাজনৈতিক দল: সুজন সম্পাদক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

গণভোটের রায় সংবিধানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এবং এর বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। যেহেতু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে, সে কারণে তারা এই রায় বাস্তবায়নে বাধ্য।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এই গণভোটের মাধ্যমেই জনগণ সরাসরি তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। যারা এই গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটে পাস হওয়া সিদ্ধান্ত সংবিধানে যা আছে তার থেকে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি জনগণের সরাসরি মতামত। এমনকি সরকারের বৈধতাও এই গণভোটের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এই দেশের জনগণ, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ (২০২৫)’ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপারে নিজেদের রায় পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে। জনগণের এই রায়ই সর্বোচ্চ এবং সকল সাংবিধানিক ক্ষমতার উৎস।

ড. বদিউল আলম মজুমদার সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার সভার শপথ না নেওয়ার বিষয়টি জনরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি একজন সংসদ সদস্যের ‘সংসদ সার্বভৌম’ মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, যেখানে লিখিত সংবিধান রয়েছে, সেখানে সংসদ সার্বভৌম নয়। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ, এবং তাদের দেওয়া রায় পালন করা বাধ্যতামূলক।

‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ এবং ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপটি পরিচালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। এ সময় রাষ্ট্রসংস্কার নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা ও তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপে ফাহিম মাশরুর বলেন, জুলাই কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। জুলাই আন্দোলন ও এত রক্তপাত শুধু একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং এটি ছিল সংস্কার নিয়ে জনগণের গভীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক – যা জুলাই সনদে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা অস্বীকার করলে বা গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানেও কি ভেনেজুয়েলা মডেলে নেতা বাছাই করবেন ট্রাম্প?

গণভোটের রায় সংবিধানের সমতুল্য, বাস্তবায়নে বাধ্য রাজনৈতিক দল: সুজন সম্পাদক

আপডেট সময় : ০৭:১৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণভোটের রায় সংবিধানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এবং এর বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। যেহেতু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে, সে কারণে তারা এই রায় বাস্তবায়নে বাধ্য।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এই গণভোটের মাধ্যমেই জনগণ সরাসরি তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। যারা এই গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটে পাস হওয়া সিদ্ধান্ত সংবিধানে যা আছে তার থেকে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি জনগণের সরাসরি মতামত। এমনকি সরকারের বৈধতাও এই গণভোটের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এই দেশের জনগণ, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ (২০২৫)’ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপারে নিজেদের রায় পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে। জনগণের এই রায়ই সর্বোচ্চ এবং সকল সাংবিধানিক ক্ষমতার উৎস।

ড. বদিউল আলম মজুমদার সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার সভার শপথ না নেওয়ার বিষয়টি জনরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি একজন সংসদ সদস্যের ‘সংসদ সার্বভৌম’ মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, যেখানে লিখিত সংবিধান রয়েছে, সেখানে সংসদ সার্বভৌম নয়। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ, এবং তাদের দেওয়া রায় পালন করা বাধ্যতামূলক।

‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ এবং ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপটি পরিচালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। এ সময় রাষ্ট্রসংস্কার নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা ও তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপে ফাহিম মাশরুর বলেন, জুলাই কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। জুলাই আন্দোলন ও এত রক্তপাত শুধু একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং এটি ছিল সংস্কার নিয়ে জনগণের গভীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক – যা জুলাই সনদে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা অস্বীকার করলে বা গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে।