ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

স্থিতিশীল বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাস, নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত এই আশ্বাস দেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার এবং দেশের অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর জোর দেন। এ সময় মন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বৈঠকে চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড’ জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, দু’দেশের মধ্যে ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কো-অপারেশন’ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলেও রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

আলোচনায় দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে চরম বৈষম্য: ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একজন চিকিৎসক

স্থিতিশীল বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাস, নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত এই আশ্বাস দেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার এবং দেশের অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর জোর দেন। এ সময় মন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বৈঠকে চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড’ জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, দু’দেশের মধ্যে ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কো-অপারেশন’ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলেও রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

আলোচনায় দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।