বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমিতির এ্যানেক্স ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সভাপতির গ্রেপ্তারের খবরে তাৎক্ষণিকভাবে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং বিচারক অপসারণের পাশাপাশি লিংকনের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।
জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার আদালতে প্রবেশ করে বিচারকের সামনেই এজলাসের বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও কাগজপত্র তছনছ করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল ও তোপের মুখে এজলাসের চেয়ার ছেড়ে খাসকামরায় চলে যেতে বাধ্য হন বিচারক। এসময় মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীদেরও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনার পরদিন আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আদালত চত্বরে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময় তারা অবিলম্বে লিংকনের মুক্তি দাবি করে স্লোগান দেন।
আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর্জা মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন বলেন, আদালতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একজন সাধারণ নাগরিককে গ্রেপ্তারের কোনো নিয়ম নেই। অথচ যৌথ বাহিনী আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে সংগঠনের সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে, যা চরম আইনের লঙ্ঘন। তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জহির উদ্দীন ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম শরিয়তউল্লাহকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যায়িত করে তাদের অপসারণের দাবি জানান।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি তারা কোনো মামলার শুনানিতে অংশ নেবেন না বলেও জানান।
এদিকে, বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু অভিযোগ করেন, উল্লেখিত বিচারক ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বরিশাল এসেছেন এবং টাকার বিনিময়ে আসামিদের জামিন দিচ্ছেন। তিনি ঘোষণা দেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আইনজীবীরা আদালত বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
রিপোর্টারের নাম 
























