বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম বিভেদ-বিভাজনমূলক যে নীতি অনুসরণ করছে, তা মূলত শেখ হাসিনার পথকেই অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের বিভেদ-বিভাজন চলতে থাকলে শেখ হাসিনা কেবল আনন্দিতই হবেন এবং তিনি দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘প্যারাসুট’ নিয়ে নামার চেষ্টা করবেন।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল) অডিটোরিয়ামে ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের একটি গভীর দার্শনিক ভিত্তি রয়েছে, যা নাগরিকদের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার এবং নির্ভয়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেয়। ১৭ বছরের রক্তঝরা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে ছাত্রদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। যারা নতুন করে রাজনীতিতে আসছেন, তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং সমাজে ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানো বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় স্বৈরাচারের পতনকে অর্থহীন করে তোলা হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘বাংলা ব্লকেড’-এর মতো কর্মসূচিগুলোকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই আন্দোলনে রিকশাওয়ালা, শ্রমিক ও সর্বস্তরের মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
তিনি জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার মানবকল্যাণ এবং নার্সদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও ন্যায্য দাবি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নার্সদের ভূমিকা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তারা রাজপথে আহত ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অবহেলা করে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিগত স্বৈরাচারী সরকার স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলেও বর্তমান সরকার এই খাত সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















