মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে রাজিবপুরে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ পর্যন্ত স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেল ৫টায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের পাইকান্টারী বল্লভপাড়া এলাকায় চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ, প্রবীণ, যুবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। তিনি বলেন, ‘চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার চরম দুর্বলতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নাজুক শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বাল্যবিবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার কারণে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের ঝুঁকিও বাড়ছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ।’

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার পরিবার এক চর থেকে অন্য চরে স্থানান্তর হতে বাধ্য হয়। গত পাঁচ বছরে সর্বস্ব হারিয়ে টিকে থাকতে না পেরে প্রায় ৬ হাজার পরিবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় ৪৫০ থেকে ৫০০ চর রয়েছে। এসব চরের মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে একপ্রকার যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, চরের মানুষের একটাই দাবি—নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনাবাহিনীর নতুন শিক্ষা উদ্যোগ: সেনাপ্রধানের হাত ধরে চালু হলো ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে রাজিবপুরে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১১:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ পর্যন্ত স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেল ৫টায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের পাইকান্টারী বল্লভপাড়া এলাকায় চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ, প্রবীণ, যুবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। তিনি বলেন, ‘চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার চরম দুর্বলতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নাজুক শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বাল্যবিবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার কারণে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের ঝুঁকিও বাড়ছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ।’

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার পরিবার এক চর থেকে অন্য চরে স্থানান্তর হতে বাধ্য হয়। গত পাঁচ বছরে সর্বস্ব হারিয়ে টিকে থাকতে না পেরে প্রায় ৬ হাজার পরিবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় ৪৫০ থেকে ৫০০ চর রয়েছে। এসব চরের মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে একপ্রকার যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, চরের মানুষের একটাই দাবি—নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।