ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: ফুলবাড়ীর আফতাবুলের পরিবার আজও স্মৃতির শোকে কাতর, দাবি অপূর্ণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৭তম বার্ষিকীতেও স্বজনদের শোক কাটেনি। তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের নামে দেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ে প্রাণ হারান রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরে আজও সেই শোকের ছায়া বিরাজমান। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ এলেই পরিবারটিতে নেমে আসে বিষাদের কালো মেঘ। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্নেল আফতাবুল। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা আজও গভীরভাবে শোকাহত।

এবারও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্মরণে জাতীয় সেনা দিবস পালিত হলেও ফুলবাড়ীতে প্রশাসনিকভাবে দিবসটি উদযাপনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আকতার জানান, দিবসটি পালনের জন্য তাঁরা কোনো চিঠি বা নির্দেশনা পাননি।

তবে, শহীদ কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুলের পরিবার তাদের নিজস্ব উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। তাঁর বড় ভাই ডা. আজিজুল ইসলাম বেলাল জানান, তাঁরা পারিবারিকভাবে বুধবার ফুলবাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন। আসরের নামাজের পর অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

অন্য এক ভাই, আনোয়ারুল ইসলাম দুলাল, তাঁর ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “লে. কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল ছিল আমাদের সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তাকে হারিয়ে আমরা আজও শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “মেধাবী হওয়ায় সে তৎকালীন বিডিআর-এর রংপুর সেক্টর কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিল। তার ওপর আমাদের পরিবারসহ এলাকাবাসীর অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।”

আনোয়ারুল ইসলাম দুলাল আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ফুলবাড়ী টু নাগেশ্বরী সড়কটির নামকরণ শহীদ কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল সড়ক করার দাবি করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরেও সেই দাবি পূরণ হয়নি।”

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা নৃশংসভাবে নিহত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিডিআর-এর রংপুর সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের মরহুম শিক্ষক বয়জার রহমান মাস্টারের কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী নাসিমা ভুঁইয়া বন্যা এবং একমাত্র মেয়ে নুদরাত নাওয়ার অরহা লন্ডনে প্রবাসী জীবনযাপন করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভরাডুবি: ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হওয়ার ঝুঁকিতে শ্রীলঙ্কা, সাঙ্গাকারার কড়া হুঁশিয়ারি

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: ফুলবাড়ীর আফতাবুলের পরিবার আজও স্মৃতির শোকে কাতর, দাবি অপূর্ণ

আপডেট সময় : ১১:৪৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৭তম বার্ষিকীতেও স্বজনদের শোক কাটেনি। তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের নামে দেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ে প্রাণ হারান রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরে আজও সেই শোকের ছায়া বিরাজমান। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ এলেই পরিবারটিতে নেমে আসে বিষাদের কালো মেঘ। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্নেল আফতাবুল। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা আজও গভীরভাবে শোকাহত।

এবারও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্মরণে জাতীয় সেনা দিবস পালিত হলেও ফুলবাড়ীতে প্রশাসনিকভাবে দিবসটি উদযাপনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আকতার জানান, দিবসটি পালনের জন্য তাঁরা কোনো চিঠি বা নির্দেশনা পাননি।

তবে, শহীদ কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুলের পরিবার তাদের নিজস্ব উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। তাঁর বড় ভাই ডা. আজিজুল ইসলাম বেলাল জানান, তাঁরা পারিবারিকভাবে বুধবার ফুলবাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন। আসরের নামাজের পর অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

অন্য এক ভাই, আনোয়ারুল ইসলাম দুলাল, তাঁর ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “লে. কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল ছিল আমাদের সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তাকে হারিয়ে আমরা আজও শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “মেধাবী হওয়ায় সে তৎকালীন বিডিআর-এর রংপুর সেক্টর কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিল। তার ওপর আমাদের পরিবারসহ এলাকাবাসীর অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।”

আনোয়ারুল ইসলাম দুলাল আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ফুলবাড়ী টু নাগেশ্বরী সড়কটির নামকরণ শহীদ কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল সড়ক করার দাবি করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরেও সেই দাবি পূরণ হয়নি।”

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা নৃশংসভাবে নিহত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিডিআর-এর রংপুর সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল আফতাবুল ইসলাম বুলবুল। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের মরহুম শিক্ষক বয়জার রহমান মাস্টারের কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী নাসিমা ভুঁইয়া বন্যা এবং একমাত্র মেয়ে নুদরাত নাওয়ার অরহা লন্ডনে প্রবাসী জীবনযাপন করছেন।