ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাউজানে যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা: দাফন সম্পন্ন, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাউজান, ২৬ ফেব্রুয়ারি: চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী মুজিবুর রহমান (৫০)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের মাদ্রাসা মাঠে মুজিবুর রহমানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাটে একটি ফলের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় কয়েকজন যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তার শরীরে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মুজিবুর রহমান পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আনজু পিতার বাড়ির মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং রাউজানের নবনির্বাচিত এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং ৯) দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চারজনসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, “মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”

নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েকদিন আগে নারী সংক্রান্ত একটি সালিশী বৈঠকে মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন, যেখানে একজন যুবককে প্রহার করা হয়েছিল। গতকাল ঘটনার দিন অলিমিয়াহাটের একটি চায়ের দোকানে ওই প্রহৃত যুবকসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে মুজিবুরের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী একটি ফলের দোকানে আড্ডা দিতে গেলে সেখানেই প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আব্দুল আজিজ ধারণা করছেন, যাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, তারাই তার ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “পুলিশ যদি তাদের একজনকে অন্তত গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।”

নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, “আমার স্বামী ইফতারের সময় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে শুনি দুর্বৃত্তরা তাকে তিনটি গুলি করেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি তিনি আর বেঁচে নেই। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

মুজিবুর রহমানের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং ছোট ছেলে প্রবাসে থাকেন। পেশায় ঘটকালি করতেন মুজিবুর। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন; এমনকি তাকে মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়া এবং চোখের ভ্রু পর্যন্ত কেটে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।

এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, অলিমিয়াহাটের পাশেই থানা পুলিশের একটি তদন্ত কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও তারা নির্বিকার। গত দুই মাসের মধ্যে এই এলাকায় দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। স্থানীয়রা এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার দেড় মাস আগে গত ৫ জানুয়ারি একই বাজারের কিছু দক্ষিণে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে (৪৮) মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার আসামিরাও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০০০ ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ ফেরত দিল রাশিয়া, পেল ৩৫ রুশ সেনার দেহ

রাউজানে যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা: দাফন সম্পন্ন, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ১০:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাউজান, ২৬ ফেব্রুয়ারি: চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী মুজিবুর রহমান (৫০)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের মাদ্রাসা মাঠে মুজিবুর রহমানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাটে একটি ফলের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় কয়েকজন যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তার শরীরে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মুজিবুর রহমান পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আনজু পিতার বাড়ির মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং রাউজানের নবনির্বাচিত এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং ৯) দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চারজনসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, “মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”

নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েকদিন আগে নারী সংক্রান্ত একটি সালিশী বৈঠকে মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন, যেখানে একজন যুবককে প্রহার করা হয়েছিল। গতকাল ঘটনার দিন অলিমিয়াহাটের একটি চায়ের দোকানে ওই প্রহৃত যুবকসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে মুজিবুরের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী একটি ফলের দোকানে আড্ডা দিতে গেলে সেখানেই প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আব্দুল আজিজ ধারণা করছেন, যাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, তারাই তার ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “পুলিশ যদি তাদের একজনকে অন্তত গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।”

নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, “আমার স্বামী ইফতারের সময় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে শুনি দুর্বৃত্তরা তাকে তিনটি গুলি করেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি তিনি আর বেঁচে নেই। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

মুজিবুর রহমানের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং ছোট ছেলে প্রবাসে থাকেন। পেশায় ঘটকালি করতেন মুজিবুর। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন; এমনকি তাকে মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়া এবং চোখের ভ্রু পর্যন্ত কেটে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।

এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, অলিমিয়াহাটের পাশেই থানা পুলিশের একটি তদন্ত কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও তারা নির্বিকার। গত দুই মাসের মধ্যে এই এলাকায় দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। স্থানীয়রা এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার দেড় মাস আগে গত ৫ জানুয়ারি একই বাজারের কিছু দক্ষিণে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে (৪৮) মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার আসামিরাও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”