যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই মন্তব্যের জেরে দেশের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প তার এক টুইট বার্তায় চার ডেমোক্র্যাট নারী কংগ্রেস সদস্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের উচিত “যেখান থেকে এসেছেন, সেই সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা ও অপরাধপ্রবণ জায়গায় ফিরে গিয়ে তা ঠিক করা”। যদিও তিনি সরাসরি কারো নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার মন্তব্য যে মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এবং মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তাইবকে লক্ষ্য করে ছিল, তা রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট। ইলহান ওমর সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী একজন প্রাকৃতিকৃত আমেরিকান নাগরিক এবং রাশিদা তাইব ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রেই।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ডেমোক্র্যাট দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে বর্ণবাদী, xenophobic (বিদেশিভীতিমূলক) এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি আমেরিকার মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং দেশের বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করার শামিল। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের মন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করে।
তবে ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় থেকেছেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্যকে সঠিক বলে দাবি করেছেন। তার মতে, ওই কংগ্রেস সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন না এবং তাদের উচিত দেশের সমালোচনা না করে যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে ফিরে গিয়ে কাজ করা। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জাতিগত বিভাজন এবং অভিবাসন বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















