বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান এই পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় আফগান বাহিনী বিনা উসকানিতে গুলি চালিয়েছে। এর জবাবে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইসলামাবাদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের একটি সামরিক কোরের গণমাধ্যম দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ‘তীব্র সংঘর্ষ’ শুরু হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বারবার উসকানি ও লঙ্ঘনের জবাবে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান ও স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হয়েছে।
আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনকে সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। মুজাহিদ আরও দাবি করেছেন, আফগান বাহিনী এই হামলায় ‘অসংখ্য সৈন্য’ হত্যা করেছে এবং বেশ কয়েকজনকে জীবিত আটক করেছে। পাশাপাশি, শত্রুপক্ষের ১৫টি চৌকি দখল করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তান হামলা চালায়। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন জানায়, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। যদিও সেই হামলার হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দাবি ছিল। ইসলামাবাদ দাবি করে, হামলায় ৮০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, আর কাবুলের দাবি অনুযায়ী ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 





















