গাজা উপত্যকায় শান্তি বোর্ড গঠনের পরও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। সংগঠনটির দাবি, মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা এবং নবগঠিত শান্তি বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাজাজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে জানান, শান্তি বোর্ড গঠনের উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করে ইসরায়েল তাদের আক্রমণ জারি রেখেছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ন বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কাসেমের মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এলেও তাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আগের মতোই রয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে গ্যারান্টর দেশগুলোর দেওয়া আশ্বাসও বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হামাসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের বিধি লঙ্ঘনে অন্তত ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৮ জন শিশু এবং ৮৫ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৬২ জন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ। এছাড়া এখনও ৮ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদী এই হামলায় গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 





















