শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ওই শিক্ষকের ডান হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত নুরুল আমীন রতন নড়িয়ার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে ভোজেশ্বর বাজারের তিন দোকান এলাকায় পৌঁছালে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার ও তার অনুসারীরা তার গতিরোধ করেন। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
আক্রান্ত শিক্ষকের চিৎকার শুনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত শরীয়তপুর সদর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার বিষয়ে আহত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন রতন বলেন, “বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে মিজান শিকদারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই আক্রোশ থেকেই তিনি ও তার লোকজন আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।”
তবে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা মিজান শিকদার। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করতেই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রয়োজনে তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. মফিজুর রহমান স্বপন জানান, আহত শিক্ষকের ডান হাতের হাড় ভেঙে গেছে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে নড়িয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন প্রধান শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























