ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

পিলখানা বিস্ফোরক মামলা: হাসিনাসহ হেভিওয়েট নেতাদের আসামি করার ইঙ্গিত!

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের মামলায় নতুন মোড় আসতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন ঢাকা উত্তরের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় হেভিওয়েট নেতাদের আসামি করা হতে পারে। মামলার প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এসব নেতার নাম উঠে আসায় তাদের মামলার অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে বিদ্রোহ শুরু করে। সেই মর্মন্তুদ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করে দেওয়া সেই ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলেও ১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি।

বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত, ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ড. মো. আলমগীরের আদালতে এই মামলার বিচার চলছে। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি দুইজন সেনা কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় এবং আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় মোট ১ হাজার ৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দিতে শেখ হাসিনাসহ উল্লিখিত হেভিওয়েট নেতাদের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এই মামলায় বর্তমানে ৮২২ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৫০ জন জামিনে আছেন এবং বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির পর প্রথমে চকবাজার থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুটি দায়ের করা হয়, পরে তা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনের মামলায় সিআইডি অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলার বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।

হত্যা মামলার রায়ে ঢাকার নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়, ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলায় ২৮৩ জন খালাস পান। বর্তমানে হত্যা মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফয়সাল হোসেন এই বিস্ফোরক আইনের মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চাই আদালত দ্রুত রায় ঘোষণা করুক। এই মামলায় কোনো আসামির জামিন হচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিন চাওয়া হলেও তা নামঞ্জুর হয়েছে। পরবর্তী ধার্য তারিখে সব আসামির জামিন আবেদন করা হবে এবং আশা করা হচ্ছে এবার জামিন মিলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নৌবাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ইরানের দ্বিতীয় সুপারট্যাংকার

পিলখানা বিস্ফোরক মামলা: হাসিনাসহ হেভিওয়েট নেতাদের আসামি করার ইঙ্গিত!

আপডেট সময় : ১০:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের মামলায় নতুন মোড় আসতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন ঢাকা উত্তরের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় হেভিওয়েট নেতাদের আসামি করা হতে পারে। মামলার প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এসব নেতার নাম উঠে আসায় তাদের মামলার অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে বিদ্রোহ শুরু করে। সেই মর্মন্তুদ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করে দেওয়া সেই ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলেও ১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি।

বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত, ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ড. মো. আলমগীরের আদালতে এই মামলার বিচার চলছে। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি দুইজন সেনা কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় এবং আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় মোট ১ হাজার ৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দিতে শেখ হাসিনাসহ উল্লিখিত হেভিওয়েট নেতাদের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এই মামলায় বর্তমানে ৮২২ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৫০ জন জামিনে আছেন এবং বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির পর প্রথমে চকবাজার থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুটি দায়ের করা হয়, পরে তা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনের মামলায় সিআইডি অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলার বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।

হত্যা মামলার রায়ে ঢাকার নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়, ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলায় ২৮৩ জন খালাস পান। বর্তমানে হত্যা মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফয়সাল হোসেন এই বিস্ফোরক আইনের মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চাই আদালত দ্রুত রায় ঘোষণা করুক। এই মামলায় কোনো আসামির জামিন হচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিন চাওয়া হলেও তা নামঞ্জুর হয়েছে। পরবর্তী ধার্য তারিখে সব আসামির জামিন আবেদন করা হবে এবং আশা করা হচ্ছে এবার জামিন মিলবে।