মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগে ওঠায় ঐতিহ্যবাহী ‘কাশাদহ সেচ প্রকল্প’ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ইরি-বোরো আবাদের এই ভরা মৌসুমে পানির উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার কৃষক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সেচ সমস্যার সমাধান না হলে বোরো চাষ ব্যাহত হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে এই ‘কাশাদহ সেচ প্রকল্প’ উদ্বোধন করেন, যা ছিল দেশের প্রথম খাল খনন কর্মসূচি। শুরুর দিকে ২০টি পাওয়ার পাম্পের সাহায্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হতো। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে মাত্র তিনটি পাম্প দিয়ে কোনোমতে প্রকল্পটি সচল রাখা হয়েছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী শিবালয় উপজেলার ১২টি গ্রামের কৃষক দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে প্রায় ৩৯৬ একর জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। নদীর পানি আয়রনমুক্ত হওয়ায় জমির উর্বরতা যেমন বজায় থাকে, তেমনি উৎপাদন খরচও অনেক কম হয়।
প্রকল্পটির আধুনিকায়নে ২০০৪ সালে এটি ‘কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা ড্রেন, স্লুইস গেট ও ওয়াটার হাউজ নির্মাণসহ খালটি পুনঃখনন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যমুনার বুকে জেগে ওঠা বিশাল চর এবং খালের বিভিন্ন অংশে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, নদীর পাড়ে পাম্প বসিয়ে পানি তোলার যে পথ ছিল, সেখানে এখন ধু-ধু বালুচর। দ্রুত এই চর কেটে ক্যানেল তৈরি করা না হলে পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। ফলে শত শত বিঘা জমি অনাবাদী থেকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে কৃষকরা এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে পানির উৎস মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, নদীতে চর পড়ার কারণে এবার সেচ কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
এ প্রসঙ্গে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানি কর্মকার জানান, তিনি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সেচ প্রকল্প এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সেচ সংকট দূর করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 
























