ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের অপসারণসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীন এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে নাইমুদ্দীনসহ দুজন সাংবাদিক আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। নাইমুদ্দীন জানান, কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও তাকে মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পুলিশের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গায়ে অন্যায়ভাবে হাত দিলে তার ফল ভালো হবে না। অতীতেও শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে।
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অর্থ বড়ুয়া এই অভিযানকে একটি ‘নাটক’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি উন্মুক্ত স্থানে মাদক গ্রহণ করে না। তার অভিযোগ, শাহবাগ থানার আশপাশে বড় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও অভিযানে কখনো বড় কোনো চালান ধরা পড়ে না। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ডিসি মাসুদ আলম অভিযানে গেলে সাইরেন বাজিয়ে এবং একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে করতে যান, যা অভিযানের গোপনীয়তা নষ্ট করে এবং সংশ্লিষ্টদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সেলিব্রেটি পুলিশিং’ বলে আখ্যায়িত করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে জিডি করতে এসে শাহবাগ থানায় তিনি পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন এবং তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়। থানায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ফুটেজ নেই বলে দাবি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাফিনসহ অন্য শিক্ষার্থীরা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আচরণে আমূল সংস্কারের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে তিন দফা পেশ করেন। এগুলো হলো:
১. বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে সব ধরনের হয়রানিমূলক পুলিশিং অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনি বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শাহবাগ থানার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া তারা ডিসি মাসুদ আলমসহ অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডিসির নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকলেও ক্ষমা এখনই চাইতে হবে এবং এ বিষয়ে তারা কোনো অজুহাত শুনতে চান না।
রিপোর্টারের নাম 

























