ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্পিকার বিতর্ক ও সরকারি-বিরোধী দলীয় হুইপের গুরুত্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। আগামী ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। তবে, বিগত সংসদের স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।

ইতিমধ্যেই, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপি জোট তাদের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করেছে। অন্যদিকে, সংসদীয় দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট জামায়াত আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, গত রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে আগামী ১২ই মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অনুপস্থিতি প্রথম অধিবেশনের সূচনা নিয়ে একটি সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করেছে। এর আগে, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

সরকারি ও বিরোধী দলীয় হুইপের কাজ কী?
জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি পদ হলো সরকারি ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ বা হুইপ পদ। সংসদের কার্যক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই পদাধিকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

চিফ হুইপকে সরকারি দলের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার সঙ্গে কয়েকজন হুইপও থাকেন, যারা সকলেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন। চিফ হুইপ ও হুইপদের প্রধান কাজ হলো সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সংসদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, হুইপের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নিজ দলের সদস্যদের পার্লামেন্ট বা আইনসভায় নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সংসদে কোনো বিল উত্থাপিত হলে দলীয় সব সদস্যরা যেন দলের পক্ষে ভোট দেন তা নিশ্চিত করা, এবং সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কতক্ষণ বক্তব্য দেবেন তার সময়সীমা নির্ধারণ করা।

অধ্যাপক মহিউদ্দিনের মতো বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, আইন অনুযায়ী চিফ হুইপ এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদটি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদার। এর ফলে বিরোধীদলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছেন। একই দিনে সরকারি দল মন্ত্রিসভা গঠন করেছে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ হয়। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরাও শপথ বাক্য পাঠের পর বিরোধী জোটের বৈঠকে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত হন।

তবে, বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হলেও, সংসদ উপনেতা কিংবা সরকার দলীয় চিফ হুইপ পদ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নতুন সংসদের পথচলায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর ভূমিকা এবং তাদের কার্যক্রম সামনের দিনগুলোতে সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্পিকার বিতর্ক ও সরকারি-বিরোধী দলীয় হুইপের গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। আগামী ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। তবে, বিগত সংসদের স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।

ইতিমধ্যেই, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপি জোট তাদের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করেছে। অন্যদিকে, সংসদীয় দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট জামায়াত আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, গত রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে আগামী ১২ই মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অনুপস্থিতি প্রথম অধিবেশনের সূচনা নিয়ে একটি সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করেছে। এর আগে, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

সরকারি ও বিরোধী দলীয় হুইপের কাজ কী?
জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি পদ হলো সরকারি ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ বা হুইপ পদ। সংসদের কার্যক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই পদাধিকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

চিফ হুইপকে সরকারি দলের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার সঙ্গে কয়েকজন হুইপও থাকেন, যারা সকলেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন। চিফ হুইপ ও হুইপদের প্রধান কাজ হলো সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সংসদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, হুইপের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নিজ দলের সদস্যদের পার্লামেন্ট বা আইনসভায় নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সংসদে কোনো বিল উত্থাপিত হলে দলীয় সব সদস্যরা যেন দলের পক্ষে ভোট দেন তা নিশ্চিত করা, এবং সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কতক্ষণ বক্তব্য দেবেন তার সময়সীমা নির্ধারণ করা।

অধ্যাপক মহিউদ্দিনের মতো বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, আইন অনুযায়ী চিফ হুইপ এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদটি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদার। এর ফলে বিরোধীদলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছেন। একই দিনে সরকারি দল মন্ত্রিসভা গঠন করেছে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ হয়। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরাও শপথ বাক্য পাঠের পর বিরোধী জোটের বৈঠকে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত হন।

তবে, বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হলেও, সংসদ উপনেতা কিংবা সরকার দলীয় চিফ হুইপ পদ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নতুন সংসদের পথচলায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর ভূমিকা এবং তাদের কার্যক্রম সামনের দিনগুলোতে সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।